Home বানিয়াচং বানিয়াচংয়ের ঐতিহাসিক সাগরদিঘী হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট

বানিয়াচংয়ের ঐতিহাসিক সাগরদিঘী হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট

0
শেয়ার করুনঃ
 রায়হান উদ্দিন সুমন :  হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম উপজেলা বানিয়াচং এর নাম অনেকেই জানেন। বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম শিকাগো শহরে পরিণত হওয়ায় বানিয়াচং বর্তমানে বৃহত্তম গ্রামের খ্যাতি লাভ করেছে। প্রাচীন জনপদ বানিয়াচং এককালে স্বাধীন রাজ্যের রাজধানী ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এই বানিয়াচংয়ে রয়েছে প্রাচীন দর্শনীয় অনেক নিদর্শন। এর মধ্যে বানিয়াচং এর সাগরদিঘী বা কমলারানীর দিঘী অন্যতম। 
 প্রায় দ্বাদশ শতাব্দীতে রাজা পদ্মনাভ প্রজাদের জনকষ্ট নিবারণের জন্য মধ্য ভাগে ঐ দিঘীটি খনন করেন। এ দিঘী খননের পর পানি না উঠায় স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে রাজা পদ্মনাভের স্ত্রী কমলাবতী আত্নবিসর্জন দেন বলে একটি উপাখ্যান এ অঞ্চলে প্রচলিত আছে। এ জন্য এ দিঘীকে কমলা রাণীর দিঘীও বলা হয়ে থাকে। এ দিঘী নিয়ে বাংলা সিনেমাসহ মঞ্চ নাটক রচিত হয়েছে। এর পাড়ে বসে পল্লী কবি জসিম উদ্দিন ‘‘রাণী কমলাবতীর দিঘী’’নামে একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। সে কবিতাটি তার ‘‘সূচয়নী’’ কাব্য গ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এ দিঘীটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বলে খ্যাতি রয়েছে। 
১৯৮৬ সালে দিঘীটি পুন: খনন করান তৎকালীন মৎস্য ও পশু পালন মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খান। পর্যটনক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনাময় আর ইতিহাস-ঐতিহ্যের লালনভূমি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি যেন বানিয়াচংএর সাগরদিঘী। এই সাগরদিঘী বা কমলারানীর দিঘীটি কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপে হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের এক অপরুপ পর্যটন স্থানে এবং কোলাহলে মুখরিত হতে পারে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমনে। 
শুধু যে বানিয়াচং গ্রামের নামটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে তাই নয়,এখান থেকে সরকার ও আয় করতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। বর্তমানে ৬৬.০০একর জায়গা নিয়ে দিঘীটি বিস্তৃত। তন্মধ্যে জলসীমা রয়েছে ৪০.০০একর। ঐ চার পাড়ে দিনাজপুরের রাম সাগরের আদলে পর্যটন পার্ক তৈরী করা হলে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে অনেক দর্শনার্থী বা পর্যটকরাই মতামত রেখে থাকেন।
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In বানিয়াচং