Home বানিয়াচং বানিয়াচংয়ে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ উদ্বোধন কাল

বানিয়াচংয়ে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ উদ্বোধন কাল

0
শেয়ার করুনঃ

স্টাফ রিপোর্টার ::: হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়কের কালিয়াশটেকা ভায়া বানিয়াচঙ্গ সড়কের গুনই বড়খালের উপর নির্মিত দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ব্রীজটি আগামীকাল ১ ডিসেম্বর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ব্রীজটির উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য গুনই ফুটবল মাঠে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল প্যান্ডেল ও মঞ্চ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও ব্রীজটি নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খানকে স্বাগত জানিয়ে হবিগঞ্জ শহর থেকে গুনই গ্রাম পর্যন্ত শতাধিক তোরণ নির্মাণ করেছেন এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। তোরণগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজিব ওয়াজেদ জয়, এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খানের ছবির পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছবি স্থান পেয়েছে। এলাকাবাসী জানান, বানিয়াচঙ্গ উপজেলার খাগাউড়া ইউনিয়নের গুনই বড়খালে স্বাধীনতার পর থেকে ব্রীজ নির্মাণ না হওয়ার ঐতিহ্যবাহী গুনই গ্রামের ১০ হাজার লোকসহ খাগাউড়া ইউনিয়নের ও বড়ইউড়ি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামবাসীসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ওই সড়কটি দিয়ে বানিয়াচঙ্গ, হবিগঞ্জ ও নবীগঞ্জে চলাচল করে থাকেন। কিন্তু ওই বড়খাল খালের মধ্যে ব্রীজ নির্মিত না থাকায় কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতে হতো। ২০০৯ সালে এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান নির্বাচিত হওয়ার পরপরই গুনই খালে ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকারের আরআরআইএমপি প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই ব্রীজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এমপি মজিদ খান। এরপর নির্মাণ কাজে জটিলতা দেখা দিলে এমপি আব্দুল মজিদ খান তা সমাধান করেন। ব্রীজটির ইদানিং নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ব্রীজটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের জন্য ১ ডিসেম্বর এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে স্থানীয় চেয়ারম্যান তারিখ নির্ধারণ করেন। উদ্বোধনের তারখি ধার্য্য হওয়ার পরই এলাকাবাসী আনন্দ উল্লাস করেন এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি জাঁকজমকপূর্ণ করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যাশিত ব্রীজটির উদ্বোধন উপলক্ষে হবিগঞ্জ থেকে গুনই পর্যন্ত শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুনই গ্রামের ফুটবল মাঠে জনসভার জন্য বিশাল প্যান্ডেল মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। গুনই গ্রামের বাসিন্দা ইউপি মেম্বার সাইফুল ইসলাম জানান, বড়খাল ব্রীজ নির্মাণ না হওয়ার কারণে আমাদের এলাকার মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আজ আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। গুনই গ্রামের বাসিন্দা জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, ব্রীজটি নির্মিত হওয়ার ফলে এলাকার শিক্ষার হার অনেকটা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি জমির দাম বৃদ্ধি পাবে । এছাড়া শিল্প কারখানা ও মৎস্যজীবীদের জন্য মৎস্য আড়ত গড়ে তোলা সম্ভব হবে। উপজেলা যুবলীগ নেতা সৈয়দ মেহেরুন রুমন জানান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান এমপি নির্বাচিত হওয়ার এই এলাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তার উন্নয়নের সফলতা আমরা ভোগ করছি। ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শামীম জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অংশ হিসেবে এমপি আব্দুল মজিদ খান ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। আমরা আজ আনন্দিত। খাগাউড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহ শওকত আরেফিন সেলিম ও বড়ইউড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, অ্যাডভোকেট মজিদ খান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আমাদের দুটি ইউনিয়নে অসংখ্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি আজ পূরণ হতে যাচ্ছে। তাই এলাকাবাসী আনন্দিত হয়ে ব্রীজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করার জন্য এমপিকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ নির্মাণ করছেন। আর ১ ডিসেম্বরের জনসভা হবে এ এলাকার ঐতিহাসিক জনসভা। এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান জানান, আমার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গুনই গ্রামের বড়খালে ব্রীজ নির্মাণ করেছি। এটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। আমি বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পেরেছি বলে আল্লাহ’র দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। এ ছাড়া বড়ইউড়ি ও খাগাউড়া ইউনিয়নের রাস্তাঘাট-ব্রীজ, কালভার্ট, স্কুল, মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান, মন্দির, শশ্মানে ব্যাপক বরাদ্দ দিয়েছি। ইনশাল্লাহ আগামীদিনেও এ দুটি ইউনিয়নে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবো।

শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In বানিয়াচং