Home বানিয়াচং বানিয়াচং হাটবাজারে শীতের শুরুতেই পিঠা বিক্রির ধুম

বানিয়াচং হাটবাজারে শীতের শুরুতেই পিঠা বিক্রির ধুম

0
শেয়ার করুনঃ
 রায়হান উদ্দিন সুমন :    পৌষের শীত আসতে না আসতেই বানিয়াচংয়ের বিভিন্ন বাজারের ফুটপাতে জমে উঠেছে পিঠা বিক্রির ধুম। সন্ধ্যার পরেই এসব বাজারে অস্থায়ী দোকানে ধোঁয়া উঠা ভাপা পিঠার স্বাদ নিতে ভীড় করেন নানা বয়সের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বাজারের অলিগলি রাসত্মার মোড়ে মোড়ে এই শীতে পিঠা খাওয়া ও বিক্রির ধুম পড়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি ও খাওয়া। সরেজমিনে বানিয়াচংয়ের গ্যানিংগঞ্জ বাজার,বড়বাজার,আদর্শবাজার,৫/৬নং বাজার উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লাহ ও বাস স্ট্যান্ডে দেখা গেছে পিঠা বিক্রির ধুম। আবার অনেক স্থানে ভ্যান গাড়িতে করে রাস্তায় রাস্তায় পিঠা বিক্রি করতে দেখা গেছে। 
একটি দোকানে পিঠা খাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের লোকেরা
পিঠা বিক্রেতা সবুজ মিয়া জানান,নতুন খেজুরের গুড় ও নতুন চাল দিয়ে ভাপা পিঠা বানানো হয়। গরম পানির তাপে (ভাপে) এই পিঠা তৈরী হয় বলে একে ভাপা পিঠা বলা হয়। এই পিঠাকে আরও সুস্বাদু ও মুখরোচক করতে নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। পিঠা তৈরীতে একটি পাতিল ও ঢাকনা ব্যবহার করা হয়। জ্বলন্ত চুলার উপর পাতিলে পানি দিয়ে ঢাকনার মাঝখানটা চিদ্র করে পাত্রের মুখে দিকে হয়। এসময় ঢাকনার চারপাশে আটা,চালের গুড়া ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে মুড়ে দেওয়া হয়। যাতে করে গরম পানির ভাপ বের হতে না পারে। তিনি আরও জানান,পরে ছোট্র একটি গোল পাত্রের মধ্যে চালের গুড়া,নারকেল ও গুড় মিশিয়ে পাতলা কাপড়ের আবরণে ঢাকনার মুখে রাখা হয়। পানি হালকা গরম তাপে নিমিষেই সিদ্ধ হয়ে যায় নতুন চালের মজাদার ভাপা পিঠা। 
পিঠা খেতে ব্যস্ত মানুষেরা
অন্যদিকে বিভিন্ন রমের ভর্তার পিঠাও রয়েছে। যাতে কাঁচামরিছ ও সরিষাভাটা থাকে। এ ধরনের পিঠা মানভেদে ৫ থেকে ১০টাকায় বিক্রি হয়। গ্যানিংগঞ্জ বাজারের পিঠা বিক্রেতা আব্দুল আলিম জানান,অন্যান্য সময়ে তিনি রাজমিস্ত্রি কাজে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু শীতের সময় তিনি পিঠা বিক্রির কাজ করেন। এ ব্যবসায় অল্প পুঁজি লাগে বলে তেমন কোন সমস্যা হয়না। এছাড়া লাভও ভাল হয়। কোন কোন দিন হাজার টাকাও লাভ হয় বলে জানান এই ভ্রাম্যমান পিঠা বিক্রেতা।
ভাপা পিঠা তৈরী করে রাখা হয়েছে
পিঠা বিক্রেতা জানে আলম মিয়া জানান,এই পিঠা দাম কম হওয়ায় সব ধরণের মানুষই এখানে ভীড় করেন পিঠা খেতে। তিনি ভাপা পিঠার সাথে সাথে চিতল পিঠাও বিক্রি করেন। কেউ কেউ আবার পিঠা কিনে নিয়ে যায় বাসার সবাই মিলে খাওয়ার জন্য। 
এখানে পিঠা খেতে আসা বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের সিএ ফয়জুর রহমান রুবেল জানান,শীতের সাথে পিঠার যে একটা নিবিড় সম্পর্ক তা ভাপা ও চিতল পিঠা খাওয়ার মধ্যেই বোঝা যায়। আর বন্ধুদের সাথে নিয়ে তা খেতে মজাই আলাদা। প্রায় দিনই তিনি এখানে পিঠা খেতে আসেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান।
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In বানিয়াচং