Home মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলে ইউপি সদস্যের বেধড়ক মারপিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নকুল পাল

শ্রীমঙ্গলে ইউপি সদস্যের বেধড়ক মারপিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নকুল পাল

0
শেয়ার করুনঃ

বিক্রমজিত বর্ধন, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ শ্রীমঙ্গলে মহিলা মেম্বারের গুরুতর আঘাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে নকুল পাল নামে এক যুবক। হাসপাতালে গেলে জানা যায় মহিলা মেম্বার লোকজন নিয়ে তার বসত বাড়ীতে প্রবেশ করে তাকে একাধিক বার বেধড়ক মারপিট করে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নং সদর ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের অধীর পালের ছোট ছেলে নকুল পালকে (২২) গত ১৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় তার বাড়িতে ভাত খাওয়া থেকে তোলে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়। ১৪ জুলাই শুক্রবার সকাল ৯ টায় ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়কে ঘটনা ফোনে বললো কেন? সেটার সূত্র ধরে আবার নকুলের বাসাতে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারপিট করে মহিলা ইউপি সদস্যা ও তার স্বামী।

এরআগে, গত বৃহস্পতিবার মহিলা মেম্বার মালেকা বেগম নকুলকে বেধড়ক মারপিট করে ব্যাটারিচালিত টমটম করে ইউনিয়নে নিয়ে আনেন। তাকে এনে ইউপি পরিষদের একটি কক্ষে তালা মেরে রাখে বলে দাবি করেন নকুলের মা। চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে নকুলের মা ও বউদির মাধ্যমে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি পরে বিচারের মাধ্যমে দেখবেন বলে চেয়ারম্যান তাদেরকে অবহিত করেন। জানা যায়, গত বুধবার কোন এক সময় পাশ্ববর্তী এলাকার নিখিল দেব’র কাছে পাওয়া টাকা চাইতে গেলে নকুল সাথে নিখিলের তর্ক বাঁধে।

নকুল পালের বউদি শিপ্রা পাল বলেন, ‘পাশ্ববর্তী এলাকার নিখিল দেব’র কাছে পাওয়া টাকা চাইতে গেলে নকুলের সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। মহিলা মেম্বারনী আমাদের ঘরে প্রবেশ করে আমার দেবরকে ভাত খাওয়া থেকে টেনে হেঁছড়ে তোলে নিয়ে খুব আঘাত করে। এসময় মেম্বারনীর সাথে তার স্বামী নানু মিয়া নকুলকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে মারপিট করে। এ সময় আমি তাদের বাঁধা দিলে গেলে আমার গায়ে হাত তুলে। এমন কি আমার শাশুড়ি গায়ে হাত তোলে।’

মহিলা মেম্বারনী মালেকা বেগমের স্বামী নানু মিয়া আমাদের ঘর থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও আমার গলার স্বর্ণের চেইন ছিড়ে নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে মহিলা মেম্বার মালেকা বেগমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, ‘নকুল কে আমরা কেহ মারপিট করিনি। নকুল পাল এলাকার বদমাশ ছেলে।’

এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সের ডাক্তার মো:সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, রোগীর শরীরের বুকে, পিঠে, মাথায়, পায়ে প্রচন্ড আঘাত করা হয়েছে। তার সুস্থ্য হতে সময় লাগতে পারে।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, এই মহিলা ইউপি সদস্যাকে প্রায়ই শ্রীমঙ্গল থানায় রাত অবধি পর্যন্ত দেখা পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে তার মোবাইল (০১৭১৮২৯৮২৮৭) থেকে কল করে এই প্রতিনিধিকে বলেন আপনি এগুলো খবর নেয়ার কে?

তাকে সরকারি প্রকল্পের কাজের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, ‘তিনি আবারও প্রতিবেদকের তথ্য চাওয়ার বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে উল্টো বলেন- আপনি প্রকল্প এর ব্যাপারে জানার কে? আপনার জানার থাকলে আমাদের পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করতে পারেন। চেয়ারম্যান সাহেব আমার সর্ম্পকে অনেক ভাল বলতে পারবেন ।’

শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In মৌলভীবাজার