Home বানিয়াচং বানিয়াচংয়ে বাড়ির সীমানা দেয়া নিয়ে সংঘর্ষ । আহত ২০ আটক ৭

বানিয়াচংয়ে বাড়ির সীমানা দেয়া নিয়ে সংঘর্ষ । আহত ২০ আটক ৭

0
শেয়ার করুনঃ

নিজস্ব প্রতিনিধি  :    বানিয়াচঙ্গে বাড়ীর সীমানা দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে জনপ্রতিনিধিসহ আহত হয়েছে প্রায় ২০ জন। তন্মধ্যে গুরম্নতর আহত ২জনকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গঁলবার দুপুরে বানিয়াচং ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের অমর্ত্মগত ঠাকুরাইন দীঘীর পূর্বপাড়ে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরাইন দিঘীর পূর্ব পাড়ের বাসিন্দা আইয়ুব আলী ও সাগরদিঘীর পূর্বপাড়ের বাসিন্দা এজাবত উল্বার মেয়ে সুহেনার সাথে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ীর সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি সোহেনার এক ভাইয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা করার জন্য টাকার প্রয়োজন হলে সুহেনা তার বাড়ীর অংশ বিক্রি করার সিন্ধামত্ম নেন। মঙ্গঁলবার কয়েকজন জনপ্রতিনিধিসহ বেশ ক’জন লোক ওই বাড়ির সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে আইয়ুব আলী গংরা এতে বাধা প্রদান করে।

এক পর্যায়ে আইয়ুব আলী গংদের লোকজন উত্তেজিত হয়ে মোজাহিদ মেম্বার, ধন মিয়া মেম্বার, সাহেদ মেম্বার, আব্দু ছালাম মেম্বার সহ আরো বেশ ক’জনের উপর চড়াও হয়ে তাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে। এদের মধ্যে গুরম্নতর আহত জাতুকর্নপাড়া গ্রামের আব্দুল মালিক এর ছেলে শাহানুর মিয়া (৩৫) ও জাতুকর্নপাড়া গ্রামের চান্দের মহলস্না এলাকার সাহেদ মেম্বার (৩৪) কে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। আহত শাহানুর মিয়াকে সিলেটের ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে দুই গ্রামে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আইয়ুব আলী গংদের দাবী জাতুকর্ন চান্দের মহলস্নার লোকজন তাদের পুরম্নষশূন্য বাড়ি ঘরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রায় ১০টি বাড়ি ভাংচুর করেছে। এসময় তাদের বাড়ী ঘরে ব্যাপক লুটপাট করে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় বলেও তারা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। সংঘর্ষ থামাতে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান,৩নং ইউপির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান,৪নং ইউপির চেয়ারম্যান রেখাছ মিয়া,ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হাসান শাহিন,যুবলীগের সাংগঠনিক ফয়সল আহমেদ,সাংবাদিক,বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিদের আপ্রাণ চেষ্টার ফলে বড়ধরণের সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পায় দুই মহল্লাবাসী। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে মহিলাসহ ৭জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃতরা হলো, মিনারা বেগম (৪৫), হাসিনা বেগম (২৫), সাবাজ মিয়া (৫), কামরম্নল হাসান (৩৫), নুরম্নল আমীন (২৮), জাহের আলী (৪০)। এদিকে সংঘর্ষ পরবর্তী ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর সার্কেল) শৈলেন চাকমা, ইউএনও সন্দ্বীপ কুমার সিংহ, ওসি মোজাম্মেল হক,ইন্সপেক্টর (তদমত্ম) জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে ওসি মোজাম্মেল হক জানান ঘটনাস্থল থেকে কিছু লোকদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আটককৃতদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে সংঘর্ষের সাথে তাদের সংশিস্নষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে গুরম্নতর আহত শাহানুর মিয়াকে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিবীড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ( আইসিইউ ) তে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যমত্ম আহত শাহানুরের জ্ঞান ফিরেনি। ৭২ঘন্টা পার না হলে ডাক্তার কোন কিছু বলতে পারবেনা বলে জানিয়েছেন তার এক আত্নীয়। তবে আহত শাহনুরের বাম চোখে মারাত্নক জখম হওয়ায় ঐ চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলবেন বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত সাহেদের অবস্থা আশংকামুক্ত বলে জানা গেছে।

 

শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In বানিয়াচং