Home বানিয়াচং আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু আ’লীগের! বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বানিয়াচং আ’লীগের যোগদান

আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু আ’লীগের! বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বানিয়াচং আ’লীগের যোগদান

0
শেয়ার করুনঃ

বিশেষ প্রতিনিধি :  বিপুল  সংখ্যক নেতাকর্মীর বহর নিয়ে বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাষ্টার ও সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন খানের নেতৃত্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিলেটের জনসভায় যোগদান করেছেন। এদিকে এবারও সিলেট থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই কেবল দেশে উন্নয়ন হয়।

চলতি বছরের শেষ দিকে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের তফসিল ঘোষণা না হলেও আওয়ামী লীগ প্রস্তুতি শুরু করেছে আগেভাগেই।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এই প্রচার উদ্বোধন করতে সিলেট যান প্রধানমন্ত্রী। হযরত শাহজালাল (র.), হযরত শাহ পরান (র.) এর মাজারসহ তিনটি মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেলা পৌনে তিনটায় তিনি যান আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয় জনসভার জন্য। সেখানে পৌঁছে শেখ হাসিনা জনগণের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। তারাও এ সময় ‘নৌকা’ ‘নৌকা’ স্লোগান দিয়ে জনসভাস্থল মাতিয়ে রাখে। সেই সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের ভাষায় মাইকে স্লোগান উঠে ‘চলিল রে চলিল, নৌকা চলিল’।

জনসভাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। আরও ২০টি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী প্রচারণা পাঁচ বছরে পদার্পণ করার সাতে সাথে শুরু করেছি। আর শুরুটাও আজকে আমরা করছি সিলেট থেকে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতীতে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন। এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, সম্মান পেয়েছে।

সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন ডিসেম্বর মাসে হবে। সেই নির্বাচনে আমরা আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’

‘নৌকা স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, নৌকা সমৃদ্ধির পথ দেখিয়েছে। নৌকা উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনসভায় উপস্থিত জনতাকে হাত তুলে নৌকায় ভোট দেয়ার ওয়াদা করান।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়ন হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের পায়ে দাড়াবে, স্বাবলম্বী হবে। বিজয়ী দেশ হিসেবে আমাদের এই দেশকে আমরা উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’

শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত, অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিএনপি সরকারের আমলের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশে সরকার যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে, তার মধ্যে সিলেটের শ্রিহট্টতেও একটি আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশীরা অগ্রাধিকার পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন, প্রতিটি মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। আমরা সেই স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছি।’

‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন উচ্চ শিক্ষা নিতে পারে তাদেরকে আমরা বৃত্তি এবং উপবৃত্তির ব্যবস্থা আমরা করেছি। একটা দেশকে উন্নত করতে হলে একটা জাতিকে শিক্ষিত করতে হয়।’

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে সিলেট আওয়ামী লীগ এবং আশপাশের জেলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল সকাল থেকেই। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল এবং তার গন্তব্যস্থলে আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চিন্তা চেতনা আর ওদের চিন্তা চেতনায় কী তফাৎটা আপনারাই বুঝতে পারেন। বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। সাধারণ মানুষের জীবনকে অতীষ্ট করতে জানে।’

‘গ্রেনেড, জঙ্গিবাদ দূর করতে গিয়ে আমার পুলিশ জীবন দিয়েছে। আর বিএনপি পেট্রল বোমা মেরেছে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার বিষয়ে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এতিমের টাকা মেরে খায়, যারা জনগণকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারে, দেশকে ধ্বংস করতে জানে, বাংলাদেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে তারা কীভাবে একটা দেশের উন্নতি করবে? যারা নিজেদেরকে ভিক্ষুক হিসেবে অন্যের কাছে হাত পেতে চলতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বর্তমান সরকারের আমলের উন্নয়নের পাশাপাশি বিএনপি আমলে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কথা তুলে ধরেন।

২০০৪ সালে শাহজালাল (র.) এর মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা, সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের ওপর গ্রেনেড হামলা, মহিলা আওয়ামী লীগের অফিসে বোমা হামলার, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ আ স ম কিবরিয়াকে হত্যার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, তার সরকার দেশে জঙ্গিবাদ দূর করে দেশকে শান্তিপূর্ণ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশের সুনাম হয়। বিএনপি জোট ক্ষমতায় বাংলাদেশ তিরস্কৃত হয়। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এটাই হয়ে যায় তাদের মূল কাজ।

বিএনপি সরকারের আমলে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছির। ১৯৯৬ সালে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১৬০০ মেগাওয়াট, সেটি আজ আমরা ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। এখন ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে।’

‘আপনারা একবার চিন্তা করে দেখেন ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ যদি পুনরায় ক্ষমতায় না আসতো উন্নতি হতো না। উন্নয়নের ছোঁয়া আপনারা পেতেন না, দেশবাসী পেত না।’

আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কাটে। জনগণের সম্পদ ধ্বংস করে। এক দিকে দুর্নীতি, লুটপাট, বাংলাদেশ পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। …বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। মানুষের জীবনকে অতীষ্ট করে তোলে।’

‘তারা চলন্ত বাসে আগুন দিয়েছে, রেল গাড়িতে আগুন দিয়েছে। পাঁচশ মানুষকে হত্যা করেছে। জীবন-জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সিলেট সদর আসনের সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ‍কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দীন আহমেদ কামরান প্রমুখ জনসভায় বক্তব্য দেন।

আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য সম্পাদক আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In বানিয়াচং