Home জাতীয় সব অভিযোগ অস্বীকার করলেন মহিউদ্দীন খান আলমগীর

সব অভিযোগ অস্বীকার করলেন মহিউদ্দীন খান আলমগীর

0
শেয়ার করুনঃ

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি- ঋণ কেলেঙ্কারি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে চাপের মুখে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছাড়লেও কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

সাবেক এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেছেন, গত তিনদিন ধরে ঢাকার তিনটি সংবাদপত্র ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতির সামনে পেশ করেছে। প্রথমে তারা বলেছে, ফারমার্স ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে আমি গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ বিতরণের আগে কমিশন নিয়েছি। এতো বড় অসত্য কথার সম্মুখীন আমার ৭৭ বছর বয়সের মধ্যে কখনও হইনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যাতে এসব তথ্য প্রকাশ না পায় এ বিষয়ে স্পিকারের কাছে অনুশাসন চেয়েছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, আমি শিল্প ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলাম, বেসিক ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থার সভাপতি ছিলাম, জেদ্দায় অবস্থিত ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ছিলাম। আমার কার্যক্রম সম্পর্কে এ ধরনের কোনো উদাহরণ, এ ধরনের খোরাক কেউ কখনো ধাবিত করতে পারেনি।

আরও পড়ুন:গরিবের বন্ধু বদির কোনো বিকল্প নেই : কাদের

আমি এ অভিযোগের বিপরীতে ফারমার্স ব্যাংকে রক্ষিত আমার ব্যাংক হিসাবে পুরো অংশ নিয়ে এসেছি। এ অংশের কোথাও কেউ একথার প্রমাণ করতে পারবেন না- কোনো ঋণ গ্রহীতার অর্থ আমার এখানে চলে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন- যে প্রত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৭ জুলাই আমি ১৩ কোটি টাকা কোনো গ্রাহকের হিসাব থেকে আমার হিসাবে নিয়ে এসেছি। আমার হিসাব সংসদে উপস্থাপিত করতে চাই- ১৭ জুলাই থেকে পরবর্তী ৭-১০ দিনে এ ধরনের কোনো ব্যক্তি হিসাবে রয়েছে বলে পরিদৃষ্ট হয় না। আমি মনে করি, এ ধরনের অপবাদ সমাজে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রতিকূল- বলেন তিনি।

আরও পড়ুন:হাইতিতে যৌন কেলেঙ্কারি: অভিযুক্ত ছিলেন বাংলাদেশে

এ প্রতিকূলতা বর্জন করে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির অনুরোধ জানান তিনি।

ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন অনুমোদনবিহীন ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, ফারমার্স ব্যাংকে কোনো অনুমোদনবিহীন ঋণ আমরা প্রক্রিয়াজাত করিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পর্যবেক্ষক পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করেছেন। এ ধরনের অনুমানভিত্তিক প্রচারণা আর্থিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রাখার প্রতিকূল। এক্ষেত্রে স্পিকারের প্রতিরক্ষণ কামনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন:আপনারা কি আমাকে ভোট দেবেন : এরশাদ

তিনি বলেন, অনুমোদনের বিপরীতে টাকা দেয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। ব্যাংকের ম্যানেজার বা অন্যদের নেই। অনুমোদনের বাইরে কোনো ঋণ দিয়ে থাকেন এটা তাদের দায়িত্ব। আমার জানা মতে এ ধরনের কোনো ঘটনা আমি যতদিন পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলাম ততদিন ঘটেনি। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করেছি, তা যথাবিধি হয়নি-একথাও বলেছে পত্রিকাগুলো। আমরা সবক্ষেত্রে যথাযোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করার চেষ্টা করেছি। যতগুলো বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে এর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক সবচেয়ে বেশি মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিদের নিয়োগ দিয়েছে। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এ নিয়োগ দিয়েছি। যদি কেউ এটা মনে করেন এতে ব্যাংকের স্বার্থ লঙ্ঘন করা হয়েছে, আমি বলবো তারা সৎ কথা বলেননি।

আরও পড়ুন:নিজেদের মাথাও কি কেটে ফেলবেন?

এ সময় সংসদে মহীউদ্দীন খান আলমগীর জানান, ওই তিনটি পত্রিকায় লেখা হয়েছে- তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব তথ্য পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ প্রণয়নে আমার কিঞ্চিত ভূমিকা রয়েছে। এ আইনের ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ এসব তথ্য বাইরে প্রকাশ করতে পারবেন না। এ ধারার আলোকে স্পিকারকে অনুরোধ করব আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এ ব্যাপারে অনুশাসন দেবেন।

তিনি সংসদে দাবি করেন, তাদের ২১ বছর আন্দোলনের কারণেই খালেদা জিয়া আজ ক্ষমতার বাইরে। এজন্য খালেদা জিয়া জেলে। এজন্য তার বিরুদ্ধে এসব কথা লেখা হচ্ছে।

সূত্র:জাগোনিউজ২৪
এমএ/১০:৪৪/১২ ফেব্রুয়ারি

শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In জাতীয়