Home জাতীয় মুক্ত মত ও সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষার স্বার্থেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: জয়

মুক্ত মত ও সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষার স্বার্থেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: জয়

0
শেয়ার করুনঃ

ঢাকা, ১২ মার্চ- ঘৃণাবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও মুক্তমতের অধিকার রক্ষার স্বার্থেই বাংলাদেশ দীর্ঘ প্রতিক্ষিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রনয়ণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইস্যু পর্যালোচনাকারী প্লাটফর্ম মডার্ন ডিপ্লোমেসিতে লেখা এক নিবন্ধে এই মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র জয় লেখেন, সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় এই আইন করা হচ্ছে। কয়েকটি পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম অভিযোগ তুলেছে এই আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের চেষ্টা হবে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এই অভিযোগ মিথ্যা।

মোবাইল গ্রাহক ও ইন্টারনেট গ্রহীতার সংখ্যা বাড়ার পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করছে বলে জানান সজীব ওয়াজেদ জয়। এই সময়ে বাংলাদেশকে অনলাইনে ঘৃণাবাদী বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিদ্বেষ ছড়ানো পোস্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সম্প্রতি হিন্দুদের ১৫ টি মন্দির ও একশো বাড়িঘরে ভাঙচুর চালাতে উগ্রবাদীরা ফেসবুক পোস্ট ব্যবহার করেছে। ফটোশপ ব্যবহার করে ওই পোস্টে মক্কার পবিত্র মসজিদে হিন্দু দেবতার ছবি বসিয়ে দেওয়া হয়। সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর জন্যই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ছবি ছড়ানো হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, একইসঙ্গে সংখ্যাগুরু মুসলিম ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা অনেকটা সুচে সুতা পরানোর মতো। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেওয়া বক্তব্য থেকে বিরত রাখা হবে। আর বাংলাদেশ সেটাই করবে। আইনের অন্য অনুচ্ছেদগুলো ক্ষমতাহীন ও সংখ্যালঘু মানুষের রক্ষাকবচের কাজ কররবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের কঠোর সমালোচনা করছেন পশ্চিমারা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিকৃতমূলক প্রচারণাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশি বিশ্বাসঘাতকদের হাতে ৩০ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তখন থেকেই নিপীড়নকারী সামরিক জান্তা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গণহত্যাকে আড়াল করতে ইতিহাস পুর্নলিখনের চেষ্টা চালিয়েছে।

বাংলাদেশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৪ ধারা প্রবর্তন করছে যাতে করে ওই জান্তা আর তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কৈফিয়ত দিতে বাধ্য করা যায়। আর তারা যেন বর্ণ ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াতে না পারে, বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, এই প্রস্তাব জার্মানি ও ১৫ টি ইউরোপীয় দেশের সেই আইনকেই প্রতিধ্বণিত করে যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাৎসী বাহিনীর হলোকাস্ট নৃশংসতাকে অস্বীকার করাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা ও বরিশাল থেকে দৈনিক চলবে সাতটি করে লঞ্চ

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল স্পেসকে নিয়ন্ত্রণের রাখার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আগের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বেশ কিছু দানবীয় উপাদানকে পেছনে ফেলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
এছাড়া নতুন আইনের মাধ্যমে ডিজিটাল চাঁদাবাজী, ব্ল্যাকমেইল, সাইবারগুন্ডামী বন্ধ করা যাবে বলেও জানান সজীব ওয়াদেজ জয়।

তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি সংবাদমাধ্যমসহ বেশকিছু সংবাদমাধ্যম ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক খবরের হুমকির বিনিময়ে বিজ্ঞাপন কিনে থাকে। নতুন আইনে এই প্রাকটিস বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বাংলাদেশিরা মুক্ত ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব দেয় জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ ধারায় বাক স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে তা আইন দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ এর অধীনে থাকার কথাও বলা হয়েছে সংবিধানে। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের বেশ কয়েকটি উন্নত দেশের সঙ্গে এর কোনও পার্থক্য নেই। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের মুক্তভাবে কথা বলার অধিকারকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায়ও লড়াই চালাতে হচ্ছে। আর এই সমন্বয় সাধনের চেষ্টাই করা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আর/০৭:১৪/১২ মার্চ

শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In জাতীয়