Home জাতীয় স্যাটেলাইট রাষ্ট্রের সম্পত্তি, অন্য কারও নয়: মোস্তাফা জব্বার

স্যাটেলাইট রাষ্ট্রের সম্পত্তি, অন্য কারও নয়: মোস্তাফা জব্বার

0
শেয়ার করুনঃ

ঢাকা, ১৫ মে- বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রসঙ্গে বিএনপি নেতাদের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মালিক রাষ্ট্র, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়। এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যে কেউ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন। সোমবার (১৪ মে) বিকালে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ১২ মে দুপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা দুই ব্যক্তির কাছে চলে গেছে। তার এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মোস্তাফা জব্বার বলেন, কেউ যদি বলে থাকেন এ স্যাটেলাইটের মালিক দুইজন, এটি অ্যাবস্যুলেটলি রং। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। স্যাটেলাইটটি রাষ্ট্রের সম্পত্তি, এটা সরকার পরিচালনা করবে।

প্রসঙ্গত, বেক্সিমকো কমিউনিকেশন ও বায়ার মিডিয়া লিমিটেড নামে দুই প্রতিষ্ঠানকে ২০১৩ সালের টিভি চ্যানেলের স্যাটেলাইট সংযোগ বিতরণের প্রযুক্তি ডিটিএইচের (ডাইরেক্ট টু হোম) লাইসেন্স দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, যেটি নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, এটি হচ্ছে তথ্য মন্ত্রণালয় ডিটিএইচ নামে একটি সেবার জন্য লাইসেন্স দিয়েছে। এটি দিয়ে টিভি সিগন্যালকে গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেবে, ছোট একটি এন্টিনা দেবে। এই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে স্যাটেলাইটের কোনও সম্পর্ক নেই। তথ্য মন্ত্রণালয় স্যাটেলাইটের মালিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যদি বলা হয়, তবে স্যাটেলাইটের মালিক বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। আমরা তো এখন পর্যন্ত কাউকে লাইসেন্সই দেইনি। তাহলে অন্য কেউ মালিক হয় কীভাবে?

স্যাটেলাইটের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মোস্তাফা জব্বার বলেন, স্যাটেলাইট আমরা উৎক্ষেপণ করেছি, সেটা সিগন্যাল দিচ্ছে। স্যাটেলাইটটি ঠিক অরবিটে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। এজন্য তিন মাস সময় লাগতে পারে। অরবিটে পৌঁছালেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে। তখন আমরা স্যাটেলাইটটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবো।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের বিপণন প্রসঙ্গে মোস্তফা জব্বার বলেন, আমাদের ৪০টি ব্যান্ড ক্যাপাসিটি আছে, দেশের জন্য ২০টি ব্যান্ড রাখা হয়েছে। এ মুহূর্তে এটি যথেষ্ট আমাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য। বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিজেদের স্বার্থে এ স্যাটেলাইটকে ব্যবহার করবে। আমারও তাদের উৎসাহিত করবো।

ভূ-কেন্দ্র প্রসঙ্গে মোস্তফা জব্বার বলেন, আমরা স্যাটেলাইটি তৈরি করিনি, উৎক্ষেপণও করিনি। কিন্তু আমাদের দেশের ছেলেরা এটিকে নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। গাজীপুরে আমাদের ভূ-কেন্দ্র ১৮ জন বাংলাদেশি কাজ করেন। এরমধ্যে ৪/৫ জন স্পেস সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাকিরা তথ্যপ্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। গাজীপুর ভূ-কেন্দ্রর তিনজন ফরাসি প্রশিক্ষকের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তারা বলেছেন, বাংলাদেশি ছেলেমেয়েরা প্রত্যেকেই এখনই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষমতা অর্জন করেছে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক ফাইভের মাধ্যমে সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। মহাকাশের ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে স্থাপিত হবে স্যাটেলাইটটি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১-এর মিশনের ১৫ বছর মেয়াদকালে সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ ও ডেটা কমিউনিকেশনের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ জন্য স্যাটেলাইটটিতে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ব্যবস্থাপনার জন্য রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) নামে একটি কোম্পানি গঠন করেছে সরকার। স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের জন্য গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আর/১০:১৪/০১৫ মে

শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In জাতীয়