Home জাতীয় খুলনায় ভোট হয়নি, ইসি বদলানোর দাবি ফখরুলের

খুলনায় ভোট হয়নি, ইসি বদলানোর দাবি ফখরুলের

0
শেয়ার করুনঃ

ঢাকা, ১৫ মে- খুলনা সিটি করপোরেশনে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে ইসি পুনর্গঠনের আওয়াজ তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত খুলনার নির্বাচনের ঘোষিত ফলে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর হার নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর ঢাকার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি মহাসচিব।

খুলনার ভোট নিয়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে ফখরুল বলেন, আজকে যদি সেনাবাহিনী থাকত, তাহলে খুলনা নির্বাচনের এই দশা হতে না।

জয়-পরাজয় আলাদা কথা। কিন্তু প্রতিপক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না, তার এজেন্টদেরকে বের করে দেবে। এটা নির্বাচন হতে পারে না, এটা নির্বাচন নয়।

ইসি পুনর্গঠনের দাবি তুলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। আমাদের এই নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন কোনোমতেই নিরপেক্ষভাবে কাজ করার যোগ্য নন। এর আমূল পরিবর্তন না হলে কোনো নির্বাচনই এখানে অর্থবহ হবে না।

দশম সংসদ নির্বাচন বয়কটের পর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়ে কোনো কোনোটিতে জিতলেও ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে।

খুলনায় গত বার নির্বাচনে বিএনপি নেতা বিজয়ী হওয়ায় এবারও তারা জয়ের আশা করছিল। তাদের মেয়র প্রার্থী মঞ্জু দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য।

ফখরুল বলেন, খুলনায় আমাদের শক্তিশালী সংগঠন আছে। গতবার আমাদের প্রার্থী বহু ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। খুলনা শহরের যে আসন, সেই আসনে আমাদের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বার বার নির্বাচিত হয়েছেন।

সেখানে শুধু নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার কারণে, পুলিশি হামলার কারণে বিএনপিকে সেখানে তারা (সরকার) দাঁড়াতেই দেয়নি।

এই নির্বাচনের শুরু থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ করে আসছিলেন মঞ্জু। ভোটগ্রহণের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করে বিএনপি।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের হামলার কারণে, পুলিশি নির্যাতনের কারণে আমাদের নেতা-কর্মীরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি। প্রত্যেকটি কেন্দ্রের সামনে সন্ত্রাসীরা বুকে নৌকা লাগিয়ে ছিল, সাধারণ ভোটারদেরও আসতে দেওয়া হয়নি।

খুলনায় ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, শুনেছি খুলনায় ভোটের কাস্টিং দেখানো হয়েছে ৬০ ভাগের উপরে দেখানো হয়েছে। অথচ দুপুরের পরে কোনো কেন্দ্রেই কোনো ভোটারকে দেখা যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত ভোটগ্রহণের কয়েকটি ভিডিওচিত্রও দেখানো হয়।

ব্যালট পেপারে নৌকার সিল; খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ভোট কেন্দ্রের চিত্র এটি; অনিয়মের কারণে এই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়েছে।

ব্যালট পেপারে নৌকার সিল; খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ভোট কেন্দ্রের চিত্র এটি; অনিয়মের কারণে এই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়েছে।

ফখরুল বলেন, মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কারণ খুলনায় যারা মিডিয়ার লোকজন আছেন, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তখন আমি একরকমের চিত্র পাচ্ছি। আবার এখানে যখন মিডিয়াতে দেখছি, তখন আরেক রকম চিত্র পাচ্ছি। আবার অনলাইনে যে তথ্য পাচ্ছি তা ডিফারেন্ট।

সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, গণমাধ্যমকে তারা (সরকার) নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে, তাদের মতো করেই করেছে। আর কিছুটা চোখে ধুলো দিয়েছে সকলের মধ্যে।

বিএনপির অভিযোগ সুনির্দিষ্ট নয় উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন বলেছে, খুলনায় উৎসবমুখর ভোট হয়েছে। তবে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটায় ২৮৯টির মধ্যে তিনটির ভোট স্থগিত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির অভিযোগকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি জানিয়ে আসা বিএনপির মহাসচিব ফখরুল বলেন, খুলনার নির্বাচনের পরে আমরা ভালোভাবে বলতে চাই, একটা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনোভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না।

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুলের সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

তার আগে স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিজন কান্তি সরকার, তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে বৈঠক করেন ফখরুল।

সূত্র: বিডিনিউজ২৪

আর/১০:১৪/০১৫ মে

শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

Load More In জাতীয়