সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনার এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে 'অপ্র্রাপ্তবয়স্ক চালক'। লাইসেন্স তো দূরের কথা, যাদের ঠিকমতো হাতল ধরার বয়স হয়নি, তারাই এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বানিয়াচং উপজেলার অলিগলি থেকে শুরু করে মহাসড়ক পর্র্যন্ত। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক এবং মোটরসাইকেলের সিটে এসব কিশোরদের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। এই প্রবণতা কেবল তাদের নিজেদের জীবনের জন্য নয়, বরং সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের জন্যও এক মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে বাজার এলাকা এবং বিভিন্ন মোড় ঘুরে দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোররা নির্ভয়ে ভারী যানবাহন চালাচ্ছে। এদের বেশিরভাগেরই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোনো ন্যূনতম জ্ঞান নেই। দ্র্রুুত গতিতে গাড়ি চালানো এবং বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং করা তাদের কাছে যেন এক প্রকার রোমাঞ্চ। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দারিদ্র্যের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অল্প বয়সেই এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় ঠেলে দিচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে সচল পরিবারের সন্তানরা শখের বশে বা বন্ধুদের পাল্লয় পড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় নামছে।
বানিয়াচং উপজেলার এক অভিভাবক জানান, পাড়ার মোড়ে মোড়ে এখন ছোট ছোট ছেলেরা ইজিবাইক চালায়। এদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রায়ই এরা দুর্ঘটনায় পড়ছে, আবার অন্যদেরও বিপদে ফেলছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অপ্র্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্টিয়ারিং তুলে দেওয়া মানে একটি সম্ভাব্য দুর্ঘটনাকে আমন্ত্রণ জানানো। এই সমস্যার সমাধানে কেবল জেল-জরিমানা যথেষ্ট নয় অভিভাবকদের সচেতনতা এবং মালিকদের দায়িত্ববোধ সবচেয়ে জরুরী।
কোনো মালিক যেন অপ্রাপ্তবয়স্ক কারো কাছে গাড়ি ভাড়া না দেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। বাজারের যানজট এবং বিশৃঙ্খলার পেছনেও এই অদক্ষ ও অপ্র্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত মনিটরিং এখন সময়ের দাবি। নতুবা সড়কের এই মরণনেশা কেড়ে নেবে আরও অনেক তাজা প্র্রাণ।
বানিয়াচং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। অপ্র্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে লাইসেন্সবিহীন ও অপ্র্রাপ্তবয়স্ক চালক ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা পরিবহন মালিক সমিতিকে সতর্ক করেছি যাতে তারা কোনো শিশুর হাতে গাড়ির চাবি তুলে না দেয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়া আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এই ধরনের চালকদের জরিমানা করছি এবং অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন জব্দ করছি। তবে কেবল আইন দিয়ে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয় অভিভাবকদের ও সচেতন হতে হবে।