• সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

সব বিমানবন্দরে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা সতর্কতা 

নিউজ ডেস্ক / ২০ Time View
Update : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার সতর্কতার জারির ঘটনায় হজরত শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সোমবার বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সূত্র আরও জানায়, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে। কোনো কিছু অস্বাভাবিক দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তর যে চিঠি দিয়েছে তার প্রেক্ষিতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এমনটি না। আমরা মাঝে মাঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করি। এরই অংশ বলা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিকিউরিটি পারসন ছাড়া বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিতে যেন কোনো ঘাটতি না হয় সেজন্যও আমরা বলেছি। শাহজালাল বিমানবন্দরের নানা স্থানে এন্ট্রি পয়েন্ট— সেগুলোতেও নিরাপত্তা ঘাটতি যেন না থাকে তার জন্য বলা হয়েছে।’ কোথাও কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত সেটি মোকাবিলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই সতর্কতা জারি করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের অভ্যন্তরীণ ওই চিঠির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

এ  ব্যাপারে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ সমকালকে জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ দেশের সকল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সুুত্র্র :  সমকাল অনলাইন


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা