ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এখন উৎসবের আমেজ। কোরবানির প্রস্তুতি, নতুন পোশাক কেনা, ঘর সাজানোসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানুষ। তবে এই আনন্দঘন প্রস্তুতির মাঝেই টানা বৃষ্টি কিছুটা ছন্দপতন ঘটাচ্ছে কেনাকাটায়।
বানিয়াচংসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে অনেক দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কমলেও, ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে কসমেটিক্স ও ফ্যাশনেবল পোশাকের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী ও নারীদের ভিড় এসব দোকানে দিন দিন বাড়ছে।
বানিয়াচং নতুনবাজারের বিভিন্ন কসমেটিক্স ও কাপড়ের দোকানে ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ক্রেতারা ছুটে আসছেন ঈদের কেনাকাটায়। নতুন ডিজাইনের পোশাক, মেকআপ সামগ্রী, জুতা ও এক্সেসরিজ কিনতে আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
বানিয়াচং নতুনবাজারে কাপড় কিনতে আসা সাবিনা বেগম নামে এক ক্রেতা বলেন, “বৃষ্টি হলেও ঈদের কেনাকাটা তো করতেই হবে। শেষ সময়ে বেশি ভিড় হয়, তাই একটু কষ্ট হলেও এখনই কিনে নিচ্ছি। বিশেষ করে কসমেটিক্স আর পোশাক আগে থেকেই ঠিক করে রাখছি।”
গৃহিনী কুুলসুুমা আক্তার জানান, “পরিবার নিয়ে বের হওয়া একটু কষ্টকর হচ্ছে, কিন্তু মেয়েদের সাজগোজের জিনিস আর ঈদের ড্রেস না কিনে উপায় নেই। তাই বৃষ্টির মাঝেই মার্কেটে আসতে হচ্ছে।”
কাপড় দোকানি জামাল মিয়া জানিয়েছেন, অন্য সময়ের তুলনায় ভিড় কিছুটা কম থাকলেও কসমেটিক্স ও ফ্যাশনের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। এক ব্যবসায়ী তওহিদ মিয়া বলেন, “বৃষ্টি থাকায় সাধারণ ভিড় কমেছে, তবে কসমেটিক্স আর নতুন ফ্যাশনের কাপড়ের দোকানে ক্রেতা আসছে ভালোই। ঈদের আগে এই সেক্টরে চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে।”
আনাবি পোষাক বিতানের সত্ত্বাধিকারী সৈয়দ সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, “আমরা নতুন কালেকশন এনেছি, তাই অনেকেই খোঁজ নিয়ে আসছেন। আবহাওয়া ভালো হলে শেষ কয়েকদিনে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”
সবমিলিয়ে বলা যায়, টানা বৃষ্টিতে সামগ্রিক কেনাকাটায় কিছুটা প্রভাব পড়লেও কসমেটিক্স ও ফ্যাশনের কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এখন সবার প্রত্যাশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ঈদের কেনাকাটায় আবারও প্রাণ ফিরে আসবে।