কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা মজবুত করার লক্ষ্যে গতকাল রবিবার (৩মে) বানিয়াচং সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ডিজিটাল স্কেলে ধান পরিমাপের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
রবিবার সকাল ১১টায় খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুুদা আক্তার সাথী। অনুষ্ঠানে খাদ্য কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি,দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে লটারীর মাধ্যমে কৃষক বাছাই উদ্বোধন করা হয়।
এ বছর সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। প্রতি মন ১৪৪০টাকা। সরাসরি তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা কোনো প্র্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন এমপি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকরা যাতে ধানের সঠিক দাম পায় এবং দালালের খপ্পরে না পড়ে, সেজন্যই আমরা সরাসরি গুদামে ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছি। এই সংগ্রহ অভিযান স্বচ্ছ করতে এবং কৃষকদের হয়রানি বন্ধে লটারীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা হয়েছে।
ধান দিতে আসা স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, আগে বাজারে কম দামে ধান বেচতে হতো, কিন্তু এখন সরকার সরাসরি কিনছে দেখে আমরা খুশি। টাকা সরাসরি ব্যাংকে চলে আসায় কোনো ঝামেলা নেই। তবে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ালে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকরা আরও বেশি উপকৃত হতো।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: সাইফুল আলম সিদ্দিকী জানান, এ বছর এই উপজেলা থেকে মোট ২ হাজার ২শত ৫ মেট্র্রিক টন ধান সংগ্র্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলবে। তিনি আরও বলেন, ধান দেওয়ার সময় কোনো কৃষক যদি কোনো প্রকার অনিয়মের শিকার হন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বন্যায় ক্ষতিগ্র্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাওর এলাকার ছয় জেলায় পূর্বনির্ধারিত ১৫ মের পরিবর্তে রোববার (৩ মে) থেকেই ধান-চাল সংগ্র্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। শুক্রবার (১ মে) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই ছয় জেলার কৃষকদের উৎপাদিত বোরো ধান ও চাল সংরক্ষণ এবং বিক্রয়ে সহায়তা দিতেই এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।