• মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন

দেখা মিলেছে সূর্যের-কৃষকের মুখে স্বস্তির ঝিলিক,দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

প্রতিনিধি,বানিয়াচং / ১২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

টানা কয়েকদিনের মেঘলা আকাশ আর অসময়ের বৃষ্টির পর অবশেষে দেশের দিগন্তজোড়া মাঠে দেখা মিলেছে সোনালী রোদের। মেঘ কাটিয়ে সূর্যের এই হাসিতে প্রাণ ফিরেছে কৃষি ও কৃষকের মাঝে। মাঠের পর মাঠ পেকে যাওয়া ধান আর সবজি ক্ষেত নিয়ে যে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা, রোদেলা আবহাওয়ায় তা মুহূর্তেই আনন্দে রূপ নিয়েছে।

সোনালী ধানের হাসি—–

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বোরো এবং রবি শস্য কাটার এই মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেক জায়গায় বৃষ্টির কারণে নিচু জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকেই কড়া রোদ ওঠায় কৃষকরা দল বেঁধে নেমে পড়েছেন ফসল সংগ্রহে।

বানিয়াচং সদরের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, “কয়েকদিন ধইরা বৃষ্টির ভয়ে রাইতে ঘুম আছিল না। ধান প্রায় পইচ্যা গেছে, বৃষ্টিতে সব শ্যাষ হয়ে গিয়েছিল। আজ সূর্য ওঠায় আল্লাহর কাছে শোকর জানাই। এখন ধানগুলা শুকায়ে ঘরে তুলতে পারুম।”

সবজি ও অন্যান্য ফসলের স্বস্তি—

শুধু ধান নয়, যারা মৌসুমি সবজি চাষ করেছেন, তাদের জন্যও এই রোদ আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। মেঘলা আবহাওয়ায় নানা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা রোদ ওঠায় অনেকটাই কমেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বর্তমান এই রোদেলা আবহাওয়া ফসলের রোগবালাই কমাতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে ধান মাড়াই এবং তা শুকানোর জন্য প্রখর রোদ অপরিহার্য।

বাজারজাতকরণের সুযোগ—-

মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ করার পর তা যথাযথভাবে শুকানো না গেলে কৃষকরা ভালো দাম পান না। বৃষ্টির কারণে ফসল ভেজা থাকলে পচন ধরার ভয় থাকে। রোদ ওঠায় এখন কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল ভালো করে শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন, যা তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করবে।

উপসংহার—

প্রকৃতির এই অনুকূল আচরণে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। রোদ আর হাসির এই সম্মিলন যেন প্রতিটি কৃষকের ঘরে নবান্নের উৎসব নিয়ে আসে—এমনটাই এখন প্রত্যাশা। গ্রামীণ জনপদ এখন ফসল কাটার গান আর ব্যস্ততায় মুখর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা