রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ব্যাংকটির কয়েকশ সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। মঙ্গলবার (৫মে) সকাল থেকেই তারা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে ‘অন্যায়ভাবে’ চাকরিচ্যুত করা এবং অবসরে যাওয়া কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা,চিকিৎসা ভাতা,উৎসব ভাতা পরিশোধ না করার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাবেক একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আমাদের জীবনের সোনালী সময় এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় করেছি। কিন্তু আজ আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”
অন্য এক নারী কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চাকরি ছাড়ার পর বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও গ্র্যাচুইটির টাকা পাচ্ছি না। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরব না।”
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং এর আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রধান সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস বা আলোচনার ডাক না আসা পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ন অবস্থান কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।