কারাবন্দী সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানীতে বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ‘নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’। শুক্রবার (৮মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, লেখক এবং মানবাধিকার কর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
প্রধান দাবিসমূহ—-
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নানা আঘাতের চিত্র তুলে ধরেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো ছিল:কারাবন্দী সকল সাংবাদিকের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি। গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল ‘হয়রানিমূলক’ ও ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভিন্নমতের সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন বন্ধ করা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু বর্তমানে তুচ্ছ ঘটনায় সাংবাদিকদের গ্রেফতার এবং দীর্ঘসময় বিনা বিচারে আটকে রাখা হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। ফ্রন্টের সমন্বয়ক বলেন:
“সাংবাদিকদের কলম স্তব্ধ করার অর্থ হলো জনগণের কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করা। যারা সত্য তুলে ধরছেন, তাদের কারাগারে পাঠিয়ে একটি ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে আমাদের সহকর্মীদের মুক্তি চাই, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সাংবাদিক সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই মানববন্ধনে যোগ দেন। তারা অভিযোগ করেন যে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়ই প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়ছেন এবং আইনি মারপ্যাঁচে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
শান্তিপূর্ণ এই মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। আয়োজকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবি মানা না হলে তারা সচিবালয় ঘেরাও বা দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট দেশবাসীকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার এই লড়াইয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে আজকের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে।