হবিগঞ্জে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান,হবিগঞ্জের স্টাফ রিপোর্টার হাফিজুুর রহমান নিয়নসহ ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১) মে দুুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব ও জেলায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও প্রিন্ট পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই মামলা করা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অবিলম্বে এই ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারেন, তবে সত্য চাপা পড়ে যাবে। এই ধরনের মামলা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।” তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় একজন গণমাধ্যমকর্মীর কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টায় এই মামলা করা হয়েছে। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি নগ্ন হস্তক্ষেপ।
সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন, অথচ দুর্নীতির খবর প্রকাশ করলেই তাঁদের আইনি গ্যাঁড়াকলে ফেলে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলা-হামলা করে কলম থামানো যাবে না। আমরা যদি অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা না বলি, তবে সমাজ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।
মানববন্ধনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, সামাজিক কর্মী, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
প্রসঙ্গত,দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা দায়ের করা হয় হবিগঞ্জের আদালতে। বুধবার (৬ মে) হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানীয় এনজিও পিপলস এসিস্ট্যান্ট ফর সোশাল এডভান্সমেন্ট (পাশা)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবির মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অপর আসামি হচ্ছেন- প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রিয়াদুল করিম । আদালতের বিচারক মোছা. তানজিনা তানিন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশকে।