• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline
ইউরোপ স্বপ্নভঙ্গের মর্মান্তিক পরিণতি : লাশ হয়ে ফিরলো বানিয়াচংয়ে জাহাঙ্গীর নৌযান শুমারি-২০২৬ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান–হুইপ গউছ লাখাইয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৩৩ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার এই কলেজ থেকে আগামীর মেধাবী ও সৎ নাগরিক তৈরি হবে : বানিয়াচংয়ে নতুন কলেজ উদ্বোধনকালে হুইপ জি কে গউছ বানিয়াচংয়ে চলাচলের অনুপযোগী কাঁচা রাস্তা : ভোগান্তি কমাতে নিজস্ব উদ্যোগে এলাকাবাসীর সংস্কার কাজ সহসভাপতি আব্দুল মালিকের ওমরা হজ্বে গমন : বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের দোয়া ও ক্রেস্ট প্রদান সাবেক এমপি শরীফ উদ্দিন আহমেদের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরকার শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে : বানিয়াচংয়ে মতবিনিময় সভায় এমপি ডা.জীবন শিক্ষার মান উন্নয়নে সুবিদপুরে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সিএনজি চালক থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর—এক সংগ্রামী মানুষের গল্প

বিশেষ প্রতিনিধি / ৪৪৫ Time View
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

বানিয়াচং-হবিগঞ্জ রাস্তায় প্রতিদিন অসংখ্য সিএনজি চলাচল করে। সেই সিএনজি চালকদের ভিড়ের মাঝেই একজন ভিন্নধর্মী মানুষ হলেন জিতু মিয়া । জীবিকার তাগিদে তিনি যেমন সিএনজি চালান, তেমনি নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে গড়ে তুলেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে এক নতুন পরিচয়।

জিতুু মিয়ার দিন শুরু হয় খুব ভোরে। সকালে সিএনজি নিয়ে বের হয়ে তিনি যাত্রী পরিবহন করেন, পরিবারের খরচ জোগান। কিন্তু দিনের ব্যস্ততার ফাঁকেই তিনি খুঁজে নেন নিজের স্বপ্নের সময়। মোবাইল ফোনটাই তার প্রধান হাতিয়ার। যাত্রী না থাকলে কিংবা একটু অবসর পেলেই তিনি ভিডিও ধারণ করেন—কখনো গ্রামের ব্যস্ত জীবন, কখনো মানুষের ছোট ছোট গল্প, আবার কখনো নিজের অভিজ্ঞতা।

শুরুটা সহজ ছিল না। আশেপাশের অনেকেই তার এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেননি, কেউ কেউ উপহাসও করেছেন। কিন্তু জিতুু মিয়া থেমে যাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তার ভিডিওগুলো মানুষের নজরে আসতে শুরু করে। তার সরল ভাষা, বাস্তব জীবনের গল্প এবং আন্তরিক উপস্থাপনা দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
বর্তমানে তার ফলোয়ার সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। অনেকেই তার ভিডিও থেকে অনুপ্রেরণা পান। একজন সাধারণ সিএনজি চালক হয়েও তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো মানুষ নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।

জিতু মিয়া বলেন, আমি ছোট মানুষ, কিন্তু আমার স্বপ্ন ছোট না। আমি চাই আমার গল্প দেখে অন্যরাও সাহস পাক। তার এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং সমাজের জন্যও একটি বার্তা—পেশা নয়, মানুষের ইচ্ছা আর প্রচেষ্টাই তাকে আলাদা করে তোলে। এই সিএনজি চালক আজ শুধু একজন চালক নন, তিনি একজন স্বপ্নবাজ কনটেন্ট ক্রিয়েটর, যিনি প্রতিদিন নিজের গল্প লিখে চলেছেন।

জিতু মিয়ার এই ভিন্নধর্মী যাত্রা নিয়ে আশেপাশের সাধারণ মানুষদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া—রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী একজন নিয়মিত যাত্রী সৈয়দ সঈদ উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ইমতিয়াজ আহমেদ লিলুু বলেন, আমি প্রায়ই তার সিএনজিতে উঠি। আগে জানতাম না তিনি ভিডিও বানান। পরে ফেসবুকে তার ভিডিও দেখে অবাক হয়েছি—একজন চালক হয়েও এত সুন্দরভাবে কথা বলেন! বিষয়টা সত্যিই অনুুপ্রেরণামূলক।

স্থানীয় এক টং দোকানদার জসিম মিয়া জানান,শুরুতে আমরা বিষয়টা তেমন গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু এখন দেখি, অনেকেই তাকে চেনে। তার জন্য আমাদের এলাকাটাও একটু পরিচিতি পাচ্ছে। একজন তরুণ ফেসবুুক ফলোয়ার বলেন, “আমি তার ভিডিও নিয়মিত দেখি। তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের গল্প তুলে ধরেন, সেটা খুবই বাস্তব লাগে। এতে আমরা অনুপ্রাণিত হই।” শিক্ষক দিদার হোসেন বলেন- “সব কাজের পাশাপাশি নিজের স্বপ্ন ধরে রাখা সহজ না। উনি সেটা করে দেখাচ্ছেন। এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রবীণ ব্যক্তি সিদ্দিক মিয়া বলেন, আমাদের সময়ে এসব সুযোগ ছিল না। এখনকার তরুণরা যদি তার মতো পরিশ্রম করে, তাহলে তারা অনেক দূর যেতে পারবে। এইসব সাধারণ মানুষের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, জিতু মিয়ার এই উদ্যোগ শুধু তার নিজের জীবনই বদলাচ্ছে না, বরং আশেপাশের মানুষদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জিতু মিয়া এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি সবসময় সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। শীতবস্ত্র বিতরণ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসামগ্রী প্রদান, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণসহ নানা মানবিক উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া, তিনি তরুণদের সমাজসেবায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করেছেন। তার এই ধারাবাহিক সামাজিক অবদান স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে এবং তাকে একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জিতু মিয়া তার সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই তিনি স্থানীয় ধনী ব্যক্তি ও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে তাদেরকে মানবিক কাজে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেছেন।

তার উদ্যোগে প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তা ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য সহায়তা, ইফতার বিতরণ, শিক্ষাসামগ্রী প্রদানসহ নানা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা উপকৃত হয়েছেন এবং এলাকায় একটি সহযোগিতামূলক ও মানবিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে।

সিএনজি চালক জিতু মিয়া বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত দোয়াখানী মহল্লার মৃৃত ছোরাব আলীর পুুত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা