ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে হবিগঞ্জে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, হবিগঞ্জের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), হবিগঞ্জ মো. মঈনুল হক।
সভায় ইটভাটায় প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন, পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো, অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, ইটভাটা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও পরিবেশবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোনো কার্যক্রম প্রশাসন মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, জ্বালানি কাঠ পোড়ানো, ড্রাম চিমনি এবং ১২০ ফুট বিশিষ্ট ফিক্সড চিমনির মাধ্যমে পরিচালিত ইটভাটার কার্যক্রম আইন অনুযায়ী বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বৈধ ইটভাটাগুলোতেও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; ইটভাটা মালিক, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং স্থানীয় জনগণসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আইন লঙ্ঘন করে কেউ ইটভাটা পরিচালনা করলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব, আইনানুগভাবে ভাটা পরিচালনা, জ্বালানি কাঠের ব্যবহার বন্ধ, নির্ধারিত চিমনি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ইটভাটা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।