হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মাদরাসার এক মেধাবী ছাত্রীকে পথিমধ্যে ইভটিজিং, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল বখাটের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত সুপারিশ ও আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মাদরাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট।
গত রবিবার ১২ জুলাই তারিখে দাখিল করা এই আবেদনে বানিয়াচংয়ের ‘শায়খ আবু নছর কোরাইশী দাখিল মাদরাসা’র সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা আবদুল হামিদ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
আবেদনপত্র সূত্রে জানা যায়, শায়খ আবু নছর কোরাইশী দাখিল মাদরাসার ৭ম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রী (রোল নং-০৯) বেশ কিছুদিন ধরে মাদরাসায় আসা-যাওয়ার পথে বখাটে যুবকদের দ্বারা চরমভাবে ইভটিজিং ও হেনস্তার শিকার হয়ে আসছিল।
সর্বশেষ গত ২ জুলাই ২০২৬ (রোজ বৃহস্পতিবার) আনুমানিক দুপুর ১:৩০ ঘটিকায় মাদরাসা থেকে ফেরার পথে প্রথমরেখ ‘নেরাবাক’ নামক এলাকায় উক্ত ছাত্রীর গতিবিধি রোধ করে একদল বখাটে। ছাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বখাটেরা তাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত অশ্লীল ও আপত্তিকর মন্তব্য করে। একপর্যায়ে তারা ছাত্রীর গায়ে ও মাদরাসার ইউনিফর্মে স্পর্শ করে শ্লীলতাহানি ঘটায়। ঘটনার প্রতিবাদ করলে ছাত্রীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর দেওয়া তথ্যমতে এই ঘটনায় জড়িত প্রধান ৪ বখাটে হলো: ১. মোঃ শুকুর আলীর পুত্র সৌরভ মিয়া (১৯), ২.সামসু মিয়ার পুত্র মোঃ নূরল আমিন (২০), ৩. আরিছ উল্লাহর পুত্র মোঃ হাসান মিয়া (২০), ৪. মোঃ জাহাঙ্গীর মিয়ার পুত্র মোঃ মুনতাহিন (২১)। এছাড়াও তাদের সাথে আরও ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা বখাটে যুবক জড়িত ছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার জেরে মেয়েটির স্বাভাবিক পড়াশোনা এবং মাদরাসায় যাতায়াত মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আবেদনপত্রে মাদরাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা আবদুল হামিদ ঘটনার সাথে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ছাত্রীর শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনপত্রটিতে ইতোমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের ‘সুপারিশ করা হলো’ মর্মে স্বাক্ষর সংবলিত নির্দেশনাও দেখা গেছে।
এদিকে আবেদনের কপি জেলা পুলিশ সুপার ও বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি’র বরাবর দেওয়া হয়েছে।