হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় এনসিপির আহ্বায়ক জীবন আহমেদ লিটনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে উপজেলার বড়বাজার এলাকায় অবস্থিত জীবন আহমেদ লিটনের অফিসে উপজেলার ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের অসহায় বাবা ফারুক মিয়া তার মেয়েকে নিয়ে যান। মেয়ের বয়স/পাসপোর্ট সংক্রান্ত একটি বিষয়ে কথা বলতে তারা জীবন আহমেদ লিটনের অফিসে উপস্থিত হন। সেখানে কৃষ্ণ নামের আরেক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে লিটন মেয়ের বাবাকে পান-সিগারেট আনার জন্য বাইরে পাঠান। এ সুযোগে তিনি মেয়েটির সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং তার শরীরে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে মেয়ের বাবা ফিরে এসে তাকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। জিজ্ঞাসাবাদ করলে মেয়েটি জানায়, লিটন তার গায়ে হাত দিয়েছেন। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশেপাশের লোকজন এসে পিতার বক্তব্য ভিডিও আকারে তোলে ধরেন। ভিডিওতে এনসিপি নেতা জীবন আহমেদ লিটন কর্তৃক তার মেয়েকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর জীবন আহমেদ লিটন তার অফিস ছেড়ে মোটরসাইকেলযোগে সেখান থেকে চলে যান। তার সাথে কৃষ্ণ নামের এক যুবক ও নাকি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মেয়ের বাবাকে নিয়ে এক জনপ্রতিনিধির কাছে যান। সেখানে তাকে একপ্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিডিওর মাধ্যমে জবানবন্দি নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
তবে পরবর্তীতে মেয়ের বাবা আরেকটি ভিডিও বার্তায় পূর্বের জবানবন্দির সত্যতা অস্বীকার করে জানান, তাকে জোরপূর্বক ওই ভিডিও দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। নতুন ভিডিওতে তিনি ঘটনার প্রকৃত বিবরণ তুলে ধরেন বলে জানা গেছে। মেয়ের বাবার দেয়া পরপর ৩ টি ভিডিও ই এই প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত আছে।
এদিকে, স্থানীয়দের দাবি—এর আগেও জীবন আহমেদ লিটনের বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি পাসপোর্ট, থানা ও ভূমি অফিসে দালালির সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ প্রতীয়মান।
অন্যদিকে, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখালেখি,চাঁদাবাজি,ব্যক্তিগত জিদের বশবর্তী হয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং একাধিক নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে জীবন আহমেদ লিটনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সমালোচিত হয়ে আসছেন।
বিশেষ করে অনৈতিক কার্যকলাপ ও পেশাগত নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে একটি জাতীয় পত্রিকা থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসব বিষয় সামনে আসায় তার বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে।
তবে তার উপর আনা অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা এনসিপির আহবায়ক জীবন আহমেদ লিটনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তী একই নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপে রিং দিলে তিনি ফোন ধরে একবার আসবেন বলে জানান। তারপর ফোন দিবেন বলে রিং কেটে দেন। কিন্তু পরে আর ফোন দেননি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।