• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
Headline
বানিয়াচংয়ে কৃষকের ৪২ শতক জমির টমেটো চারা কেটে দিল দুর্বৃত্তরা-ক্ষতি ১২ লাখ টাকা ! বানিয়াচংয়ের চার কলেজে পাস ৮৩৭ জন, ফেল করেছে ৮৬৪ জন-জিপিএ৫ মাত্র ২ জন। নাটক ছিল অপহরণকাণ্ডের : প্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার হল জুয়েল বানিয়াচংয়ে জুয়েল মিয়ার অপহরণ নিয়ে রহস্য-মুক্তিপণ দাবি ১০ লাখ টাকা ! হবিগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত ২৬ কর্মচারীকে জেলা প্রশাসনের বিদায়ী সংবর্ধনা আজমিরীগঞ্জে ৩ মাস ধরে ইউএনও নেই : প্রজ্ঞাপনের পরও যোগদান করেননি নতুন কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাটারি পুড়িয়ে শীসা তৈরির কারখানা সরিয়ে নিল কর্তৃপক্ষ বানিয়াচং-শিবপাশা রোডে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি : কারখানার বিষয়ে অবগত নয় পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা-বিষাদে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে দুই গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান

তাজা মাছের আড়ালে ‘রঙের খেলা’: শিং মাছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোক্তা

বিশেষ প্রতিনিধি / ৮৪ Time View
Update : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

মাছের বাজার ঘুরলেই চোখে পড়ছে কুচকুচে লাল ও চকচকে তাজা শিং মাছ। বিক্রেতাদের মুখে একদম নদী, খাল বা বিলের তাজা মাছ! চড়া দামে এসব মাছ কিনে বাড়িতে ফিরছেন সাধারণ ক্রেতারা। কিন্তু রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছাতেই উন্মোচিত হচ্ছে থলের বিড়াল। ধোয়ার সাথে সাথেই মাছের গায়ের গাঢ় লাল রং উঠে গিয়ে বেরিয়ে আসছে ফিকে বা ফ্যাকাশে ভাব।

বাজারজুড়ে এখন চলছে শিং মাছে টেক্সটাইল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক রং মিশিয়ে ‘দেশি’ বা ‘বিলের মাছ’ বানানোর অভিনব জালিয়াতি। অধিক লাভের আশায় একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মিত এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছেন, আর পকেটের টাকা খসানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার ৩১জুলাই জেলাসহ উপজেলার একাধিক মাছ বাজারে গিয়ে এমন শিংমাছ দেখতে পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, চাষের ফ্যাকাশে বা ধূসর রঙের শিং মাছকে কম দামে পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং ‘বিলের দেশি মাছ’ হিসেবে চালিয়ে দিতে ব্যবহার করা হয় কাপড়ের রং (টেক্সটাইল ডাইং) বা ক্ষতিকর রাসায়নিক কেমিক্যাল।

পরিচয় গোপন রেখে এক মাছ বিক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাছ বিক্রির আগে ড্রাম বা পাত্রে পানির সাথে কেমিক্যাল ও কৃত্রিম রং মিশিয়ে তার মধ্যে মাছ কিছুক্ষণ জ্যান্ত ভিজিয়ে রাখা হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই চাষের মাছের গায়ে গাঢ় কালচে বা প্রাকৃতিক মাছের মতো কুচকুচে কালো আস্তর পড়ে যায়।

বাজারের আলোর নিচে এই কৃত্রিম রঙের মাছকে ‘বিলের জ্যান্ত দেশি শিং’ দাবি করে প্রতি কেজিতে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হয়। প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, “দেশি শিং মাছ ভেবে চড়া দামে কিনে এনেছিলাম। কিন্তু ধোয়ার পরই কালচে রং উঠে সাদাটে হয়ে গেল। আমরা টাকা দিয়ে বিষ খাচ্ছি!”

এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা: শামীমা আক্তার জানান, খাদ্যে কাপড়ের রং বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবদেহের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। মাছে ব্যবহৃত টেক্সটাইল রং খাদ্যোপযোগী নয়। এসব কৃত্রিম রংযুক্ত মাছ নিয়মিত খেলে পাকস্থলী ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি বিকল এবং ক্যানসারের মতো মারণব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সাধারণ মানুষের দাবি, মাছের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের এই জালিয়াতি বন্ধ করতে অনতিবিলম্বে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। উপযুক্ত জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা না করা গেলে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতারণা থামানো সম্ভব নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা