• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
Headline
বানিয়াচংয়ে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ : ৩ দিনের মধ্যে আরেক শিশু নিখোঁজ বানিয়াচংয়ে শিশু নিখোঁজে বাড়ছে আতঙ্ক : খোঁজ মিলছে না ফাবিয়ার বানিয়াচংয়ে জমি বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা নাজিম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৪ মহল্লাহবাসীর হুঁশিয়ারি-ক্ষমা না চাইলে কঠোর আন্দোলন হবিগঞ্জে বন্যা দুর্গতদের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু বানিয়াচংয়ে ইউএনও নেই ১ মাস যাবত : প্রশাসনিক অচলাবস্থা-জন্ম নিবন্ধন সেবা স্থবির তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : জেলা প্রশাসক ড. জি. এম সরফরাজ শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবার উদ্বোধন ন্যায়বিচার ও আধুনিক সুবিধার অঙ্গীকার নিয়ে প্রার্থী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল মুরাদ

তাজা মাছের আড়ালে ‘রঙের খেলা’: শিং মাছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোক্তা

বিশেষ প্রতিনিধি / ৭১ Time View
Update : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

মাছের বাজার ঘুরলেই চোখে পড়ছে কুচকুচে লাল ও চকচকে তাজা শিং মাছ। বিক্রেতাদের মুখে একদম নদী, খাল বা বিলের তাজা মাছ! চড়া দামে এসব মাছ কিনে বাড়িতে ফিরছেন সাধারণ ক্রেতারা। কিন্তু রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছাতেই উন্মোচিত হচ্ছে থলের বিড়াল। ধোয়ার সাথে সাথেই মাছের গায়ের গাঢ় লাল রং উঠে গিয়ে বেরিয়ে আসছে ফিকে বা ফ্যাকাশে ভাব।

বাজারজুড়ে এখন চলছে শিং মাছে টেক্সটাইল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক রং মিশিয়ে ‘দেশি’ বা ‘বিলের মাছ’ বানানোর অভিনব জালিয়াতি। অধিক লাভের আশায় একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মিত এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছেন, আর পকেটের টাকা খসানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার ৩১জুলাই জেলাসহ উপজেলার একাধিক মাছ বাজারে গিয়ে এমন শিংমাছ দেখতে পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, চাষের ফ্যাকাশে বা ধূসর রঙের শিং মাছকে কম দামে পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং ‘বিলের দেশি মাছ’ হিসেবে চালিয়ে দিতে ব্যবহার করা হয় কাপড়ের রং (টেক্সটাইল ডাইং) বা ক্ষতিকর রাসায়নিক কেমিক্যাল।

পরিচয় গোপন রেখে এক মাছ বিক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাছ বিক্রির আগে ড্রাম বা পাত্রে পানির সাথে কেমিক্যাল ও কৃত্রিম রং মিশিয়ে তার মধ্যে মাছ কিছুক্ষণ জ্যান্ত ভিজিয়ে রাখা হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই চাষের মাছের গায়ে গাঢ় কালচে বা প্রাকৃতিক মাছের মতো কুচকুচে কালো আস্তর পড়ে যায়।

বাজারের আলোর নিচে এই কৃত্রিম রঙের মাছকে ‘বিলের জ্যান্ত দেশি শিং’ দাবি করে প্রতি কেজিতে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হয়। প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, “দেশি শিং মাছ ভেবে চড়া দামে কিনে এনেছিলাম। কিন্তু ধোয়ার পরই কালচে রং উঠে সাদাটে হয়ে গেল। আমরা টাকা দিয়ে বিষ খাচ্ছি!”

এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা: শামীমা আক্তার জানান, খাদ্যে কাপড়ের রং বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবদেহের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। মাছে ব্যবহৃত টেক্সটাইল রং খাদ্যোপযোগী নয়। এসব কৃত্রিম রংযুক্ত মাছ নিয়মিত খেলে পাকস্থলী ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি বিকল এবং ক্যানসারের মতো মারণব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সাধারণ মানুষের দাবি, মাছের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের এই জালিয়াতি বন্ধ করতে অনতিবিলম্বে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। উপযুক্ত জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা না করা গেলে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতারণা থামানো সম্ভব নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা