বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নদী-খাল-বিলের পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরই প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকায় ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত করাতের শব্দ আর কাঠের গন্ধে মুখর হয়ে উঠছে এলাকার ছোট ছোট দোকানগুলোতে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, একটি কাঠের দোকানের সামনে বড় আকারের একটি ডিঙি নৌকা তৈরি করছেন কয়েকজন মিস্ত্রি। কেউ কাঠ কাটছেন, কেউ আবার মাপজোক করে কাঠ জোড়া লাগাচ্ছেন। বর্ষার পানিতে গ্রামাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই ডিঙি নৌকা।
স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি জামাল মিয়া জানান, “বর্ষা এলেই আমাদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। অনেকেই আগেভাগেই নৌকার অর্ডার দিয়ে রাখেন। এখন প্রায় প্রতিদিনই নতুন অর্ডার পাচ্ছি। একটি নৌকা বানাতে কাঠের ধরন অনুযায়ী ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগে।”
আরেক মিস্ত্রি নাজমুল বলেন, “আগের তুলনায় এখন কাঠের দাম বেড়েছে, তাই নৌকা তৈরির খরচও কিছুটা বেশি পড়ছে। তারপরও মানুষের প্রয়োজনের কারণে কাজ থেমে নেই।”
এদিকে, নৌকা কিনতে আসা গ্রাহক মহিবুুর রহমান বলেন, “বর্ষা শুরু হলে আমাদের এলাকায় পানি উঠে যায়। তখন নৌকা ছাড়া চলাচল করা সম্ভব না। তাই প্রতি বছরই একটি করে নৌকা মেরামত বা নতুন করে বানাতে হয়।”
সিয়াম আহমেদ জানান, “ডিঙি নৌকা শুধু যাতায়াতের জন্য নয়, মাছ ধরা ও দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহার করি। তাই ভালো মানের কাঠ দিয়ে নৌকা বানানোর চেষ্টা করি।”
স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে ডিঙি নৌকা গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রতিবছর বর্ষার আগমনের সাথে সাথে নৌকা তৈরির এই ব্যস্ততা নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।