• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
Headline
প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা-বিষাদে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে দুই গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে হবিগঞ্জে জেলা তথ্য অফিসের স্টিকার বিতরণ বানিয়াচংয়ে দুর্গাপূজার নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ঢল : বিদায়ের অপেক্ষায় দেবী দুর্গা বানিয়াচংয়ের গর্ব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী পেলেন বাণিজ্য সচিবের দায়িত্ব মীম নিখোঁজের এক মাস-পুলিশের বক্তব্য ‘আমরা কাজ করে যাচ্ছি’ “৩৭ জনের ক্ষত শুকায়নি-আবারও নিখোঁজ হবিগঞ্জের ১০ জন—উদ্বেগে ভাটির জনপদ” হবিগঞ্জে মানবতা ও সাম্যের বাণীতে লালন সাঁইকে স্মরণ দলীয় ফোরাম উপেক্ষা করে ফেসবুকে মনগড়া অভিযোগ : বিব্রত বানিয়াচং বিএনপি শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা আয়োজনে তৎপর হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন

স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যাওয়া ‘মুন সিনেমা হল’—আজমিরীগঞ্জে এখন নিঃসঙ্গ এক স্থাপনা

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি / ১৯৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ভাটি অঞ্চলে কুশিয়ারা নদীর তীরে এক সময়ের দর্শকপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র ‘মুন সিনেমা হল’ এখন পরিত্যক্ত এক স্মৃতিচিহ্নে পরিণত হয়েছে। লঞ্চঘাট সংলগ্ন এই সিনেমা হলটি এক সময় ছিল এলাকার মানুষের প্রধান বিনোদনের স্থান।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গ্রামগঞ্জের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে সিনেমা দেখতে আসতেন। ঈদ, পূজা বা ছুটির দিনগুলোতে হলের সামনে থাকত উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার এবং নতুন বিনোদন মাধ্যমের কারণে ধীরে ধীরে কমতে থাকে দর্শক সংখ্যা। একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় এই ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলটি।

বর্তমানে সিনেমা হলটির ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালের রং উঠে গেছে, জানালার নকশাগুলোতে জমেছে ধুলা ও ময়লা। হলের সামনে এখন দেখা যায় কাঠের গুঁড়ি, গবাদিপশু ও স্থানীয়দের দৈনন্দিন কাজকর্ম—যা এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “এই হলটা ছিল আমাদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি। এখন এটা দেখে খুব খারাপ লাগে।” সাংস্কৃতিককর্মী জীবন দাস বলেন, “আগে এখানে সিনেমা দেখতে না পারলে যেন আনন্দই পূর্ণ হতো না। এখন মোবাইল আর টিভিই সবকিছু দখল করে নিয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক সময় গ্রামীণ সমাজে সিনেমা হল ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং বিনোদনের ধরণ বদলে যাওয়ায় এসব হল টিকে থাকতে পারেনি।

আজ ‘মুন সিনেমা হল’ শুধু একটি পরিত্যক্ত ভবন নয়—এটি এক সময়ের প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ গ্রামীণ সংস্কৃতির নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অন্তত এই স্থাপনাটি সংরক্ষণ বা নতুনভাবে ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে তাদের অতীতের গল্প।

উল্লেখ্য, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কুশিয়ারা, কালনীসহ বিভিন্ন নদীবেষ্টিত ভাটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত । এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ ছিল এই  সিনেমা হল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা