মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের London শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে “Media Freedom for Human Rights and Democracy” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা এ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্যপ্রবাহে বাধা দূর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। শুক্রবার (২২মে) এক হোটেলে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
“Media Freedom for Human Rights and Democracy” শীর্ষক সংলাপে ব্রিটিশ সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক কণ্ঠে বাংলাদেশের আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানান। আলোচনায় উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ঘটনার পর বহু সাংবাদিককে “ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” অভিযোগে আটক রাখা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত করার বিষয়টি।
বিবিসির সাবেক সাংবাদিক উইলিয়াম হর্সলি, রিটা পেইন, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, সৈয়দ বদরুল আহসানসহ সংলাপে বক্তব্য রাখেন। এসময় তারা বলেন, গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা যায় না।গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হচ্ছে স্বাধীন গণমাধ্যম। একটি দেশের উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের অবাধভাবে কাজ করার পরিবেশ থাকা অত্যন্ত জরুরি।
তারা আরও উল্লেখ করেন, অনেক দেশে এখনও সাংবাদিকরা হয়রানি, নিপীড়ন ও হামলার শিকার হচ্ছেন—যা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি। সংলাপে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন আটক সাংবাদিক শ্যামল দত্তের কন্যা শুশমা শশী দত্ত। যিনি বাবার দীর্ঘ কারাবাস ও শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে আবেগঘন আবেদন জানান।
বক্তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, ডিজিটাল যুগে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার বিকল্প নেই। এজন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নৈতিক মানদণ্ড জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যাতে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। লন্ডনের এই আয়োজন থেকে স্পষ্ট বার্তা এসেছে, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব নয়। সত্য বলার কারণে আটক সব সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে বলে সংলাপে আসা অতিথিরা মনে করেন।