জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর অংশ হিসেবে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৫ নং গরীব হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছে। উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে এবার জেলা পর্যায়ে লড়াইয়ের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে এই বিদ্যালয়ের ৬ জন কৃতি শিক্ষার্থী।
বিভিন্ন ইভেন্ট ও বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা অসাধারণ মেধা ও দক্ষতা প্রদর্শন করে উপজেলা পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে। যা বিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা এ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ক্রীড়া এবং বিষয়ভিত্তিক কুইজ—এই দুই শাখায় শিক্ষার্থীরা এবার জেলা পর্যায়ে অংশ নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী নুসরাত জাহান নৌশিন জোড়া বিষয়ে (ক্রীড়া শাখায় অংক দৌড় এবং বিষয়ভিত্তিক কুইজে গণিত) প্রথম হয়ে জেলা পর্যায়ে যাচ্ছে।
বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী কৃতি শিক্ষার্থীরা হলো:
ক্রীড়া শাখা (অংক দৌড়): নুসরাত জাহান নৌশিন (শ্রেণি: ৫ম, রোল: ১০)। সে মোঃ তফুর মিয়া ও রহিমা আক্তার দম্পতির কন্যা।
ক্রীড়া শাখা (ভারসাম্য দৌড়): মোছাঃ ইতি আক্তার (শ্রেণি: ৩য়, রোল: ৮৮)। সে মোঃ হোসেন মিয়া ও মোছাঃ আমিনা খাতুনের কন্যা।
বিষয়ভিত্তিক কুইজ (গণিত): নুসরাত জাহান নৌশিন (শ্রেণি: ৫ম, রোল: ১০)।
বিষয়ভিত্তিক কুইজ (গণিত): শাহরিয়ার আজিম (শ্রেণি: ৫ম, রোল: ০৪)। সে মোঃ আওলাদ মিয়া ও শারমীন আক্তারের পুত্র।
বিষয়ভিত্তিক কুইজ (বাংলা): জামিলা আক্তার মারিয়া (শ্রেণি: ৫ম, রোল: ০১)। সে মোঃ ইব্রাহিম মিয়া ও ইশরাত জাহান সুমির কন্যা।
বিষয়ভিত্তিক কুইজ (ইংরেজি): ইয়াসমিন ইকরাম খান সায়েম (শ্রেণি: ৫ম, রোল: ০৮)। সে আব্দুল ওয়াহিদ (ওরফে তোফাজ্জুল) ও আকলিমা বেগমের কন্যা।
এ বিষয়ে গরীব হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আওলাদ মিয়া সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের। শিক্ষকমণ্ডলীর অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শিক্ষার্থীদের মেধার ফলেই তারা আজ জেলা পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমরা আশাবাদী, জেলা পর্যায়েও তারা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে বিদ্যালয়ের জন্য বড় সুনাম বয়ে আনবে।” তিনি জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফলের জন্য সকলের নিকট দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মনোযোগ ও নিষ্ঠার সাথে প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদের এই অর্জন আমাদের জন্য গর্বের। “শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাফল্য ধরে রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই মিলে কাজ করে যাব।”
বিদ্যালয়ের এমন অর্জনে এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।