হবিগঞ্জে ব্রাইট একাডেমি শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের এম সাইফুর রহমান টাউন হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ব্রাইট একাডেমির চেয়ারম্যান সৈয়দ এনাম আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষাই জাতির উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ করে দিতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষাবৃত্তি কেবল একটি আর্থিক সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের প্রতি সমাজের আস্থা ও স্বীকৃতির প্রতীক। এই স্বীকৃতি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করে।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা সততা, পরিশ্রম ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে নিজেদের গড়ে তোলো। শুধু ভালো ফলাফল নয়, একজন ভালো মানুষ হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “ব্রাইট একাডেমির এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং মেধাবীদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাপা হবিগঞ্জের সভাপতি এডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন জয়ন্ত সিংহ রায়, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল এবং সামাজিক সংগঠন বটতলার সাধারণ সম্পাদক হাসবী সাঈদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, শিক্ষাবৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার বড় উৎস, যা তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মেধাবী ৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
সার্বিকভাবে সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত এই আয়োজনটি শিক্ষার প্রসারে ব্রাইট একাডেমির ইতিবাচক ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।