একটি অনগ্রসর ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে এনে আলোর মুখ দেখানো সহজ কাজ নয়। আর এই কঠিন কাজটিই অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে শুরু করেছিলেন বানিয়াচং উপজেলার এক মহান শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। তিনি হলেন— ডাঃ এম.জি. জুলফুকার।
পিছিয়ে পড়া সাধারণ মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার এক মহৎ ও দূরদর্শী স্বপ্ন নিয়ে আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে যাত্রা শুরু করেছিল ‘ডাঃ ইলিয়াছ একাডেমী’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
বানিয়াচং উপজেলা সদরের মিয়া খানী শেখের বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডাঃ এম.জি. জুলফুকার। নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য ও আভিজাত্যকে কেবল নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, তিনি তা বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন সমাজের কল্যাণে। এলাকার লেখা-পড়ায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ অনুভব করেন তিনি।
সেই মহান উদ্দেশ্য থেকেই, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে নিজের পরম শ্রদ্ধেয় পিতার প্রতি গভীর সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ডাঃ ইলিয়াছ একাডেমী’।
বিদ্যালয়টি বানিয়াচং সদর ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের ঠিক দক্ষিণ পাশে এক মনোরম ও ছায়াশুনিবিড় পরিবেশে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি এলাকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিদ্যা অর্জনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়।
১৯৯১ সালে রোপণ করা সেই শিক্ষার ছোট বীজটি আজ এক বিশাল মহীরূহে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে বিদ্যালয়টি তার গৌরবের পয়ত্রিশ (৩৫) বছর পূর্ণ করেছে। বিগত সাড়ে তিন দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সুনামের সাথে অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে বিদ্যালয়টি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন।
ডাঃ এম.জি. জুলফুকারের মতো নিঃস্বার্থ সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মানুষের হাত ধরেই আমাদের সমাজ আজ এতোটা এগিয়ে যেতে পেরেছে। পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং সমাজের কল্যাণে উনার গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানটি বানিয়াচংয়ের বুকে চিরকাল জ্ঞানের আলো ছড়াতে থাকুক— এটাই আজ এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।