বাংলাদেশের জনপ্রিয় রক ব্যান্ড আর্টসেলের ফ্রন্টম্যান লিংকন ডি-কস্তার অনুপস্থিতিতে ট্যুর ভোকাল হিসেবে যুক্ত হয়েছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃতী সন্তান বখতিয়ার হোসেন। সংগীত অঙ্গনে এ খবর ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বখতিয়ার হোসেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ১নং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের নন্দীপাড়া মহল্লার বাসিন্দা তারা মিয়ার পুত্র। শৈশবের শেকড় বানিয়াচংয়ে হলেও তিনি বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা, পড়ালেখা এবং সংগীতজীবনের সূচনা।
চট্টগ্রামে পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই বখতিয়ারের মিউজিক জগতে হাতেখড়ি হয়। ধীরে ধীরে নিজের কণ্ঠ ও পারফরম্যান্স দক্ষতা দিয়ে তিনি সংগীত অঙ্গনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যান্ড সংগীতে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন সম্ভাবনাময় শিল্পী হিসেবে।
জানা যায়, আর্টসেলের চলমান ট্যুর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প ভোকাল হিসেবে বখতিয়ার হোসেনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তার কণ্ঠ ও পারফরম্যান্স দক্ষতা ব্যান্ডটির সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন সংগীতপ্রেমীরা।
বখতিয়ার হোসেন এর আগে “বে অফ বেঙ্গল” নামের একটি ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানেও তিনি তার গায়কী ও মঞ্চ উপস্থিতির মাধ্যমে শ্রোতাদের মন জয় করেন। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করে তিনি এখন দেশের অন্যতম শীর্ষ রক ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। বখতিয়ার হোসেন একাধারে লেখক,কম্পোজার,মিউজিশিয়ান,আর্টিস্ট,বংশিবাদক ও চিত্রশিল্পী।
সংগীত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আর্টসেলের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ডে ট্যুর ভোকাল হিসেবে যুক্ত হওয়া বখতিয়ার হোসেনের ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একই সঙ্গে এটি বানিয়াচংয়ের জন্যও গর্বের বিষয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংগীতপ্রেমীরা বলেন, বানিয়াচংয়ের একজন তরুণ শিল্পীর জাতীয় পর্যায়ে এমন সাফল্য সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা তার সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করি।
উল্লেখ্য, আর্টসেল বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় নাম। নতুন এই সংযোজনের মাধ্যমে তাদের ট্যুর কার্যক্রমে ভিন্নমাত্রা যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আর্টসেল ব্যান্ডের ভোকালিস্ট বখতিয়ার হোসেন বলেন, লিংকন ভাই যতদিন না দেশে ফিরছেন, ততদিন পর্যন্ত আর্টসেলের সাথে গেস্ট মেম্বার হিসেবে কাজ করতে পারা আমার জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের এবং সৌভাগ্যের। এটা বেশ চ্যালেঞ্জের ব্যাপার, সেইসাথে আমার শেখা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ভান্ডারে যুক্ত হবে নতুন আরো অনেককিছু।
আর্টসেলে গেস্ট মেম্বার হিসেবে পারফর্ম করার পাশাপাশি, আমার নিজস্ব মিউজিক্যাল একটিভিটি, কম্পোজিশন ও আমার সোলো লাইনাপের লাইভ শো চলমান থাকবে। আমি শিল্পচর্চার মানুষ। নিজস্ব শিল্পসৃষ্টির প্রয়াস আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্তই থাকবে৷
আমি জানি, আর্টসেল একটা ব্যান্ড যা কিনা আমার মতো কোটি মানুষের আবেগের জায়গা জুড়ে আছে। আর সেখানে লিংকন ভাইয়ের মতো একজন ফ্রন্টম্যানের জায়গায় অন্য কাউকে মেনে নেওয়া আসলেই ভীষণ কঠিন। তবে ব্যাপারটা নির্দিষ্ট সময়ের, লিংকন ভাই নিশ্চয়ই আবার ফিরবেন। আমরা সবাই দলবেঁধে আবারও তার মঞ্চ কাঁপানো পারফরম্যান্স উপভোগ করবো।
কৃতজ্ঞতা আর্টসেল আমার উপর আস্থা রাখার জন্য। কৃতজ্ঞতা শ্রোতাদের প্রতি, যারা আমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, আমার মিউজিকে ফেরায় আনন্দিত হয়েছেন, বিশ্বাস রেখেছেন। যারা বিশ্বাস রাখতে পারছেননা, তাদের মতের প্রতিও আমি শ্রদ্ধাশীল।