হবিগঞ্জ-২ বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম এডভোকেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুম্মার নামাজের পর তাঁর নিজ এলাকা বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ যাত্রাপাশা গ্রামে মরহুমের পরিবারের উদ্যোগে প্রতিটি মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মুসল্লিসহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে মরহুম এডভোকেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ এর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মরহুম এডভোকেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন এলাকার একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরই পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য ,মরহুম শরীফ উদ্দিন আহমেদ সৎ জীবনযাপন ও আদর্শিক রাজনীতির জন্য আজও তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টামত্ম হয়ে আছেন। মরহুম শরীফ উদ্দিন আহমেদ বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামে ১৯৪২ সালে ৭ই মার্চ জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মরহুম দিদার বক্স। শরীফ উদ্দিন আহমেদ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক এবং বানিয়াচং এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করেন।
১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন এ্যান্ড রিসার্স থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭১সালে সম্মানের সহিত এলএলবি পাশ করেন। এলএলবি পাশ করার পূর্বে তিনি বানিয়াচংয়ের ঐতিহাসিক এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কয়েক বছর সুনামের সাথে শিক্ষকতা করে ছাত্রদের পরম আত্নার আত্নীয় হয়ে উঠেছিলেন। পরে হবিগঞ্জ কোর্টে আইন ব্যবসা করে সাফল্য বয়ে আনেন। আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতি ও মানুষের সেবাকে কর্ম হিসেবে গ্রহন করেছিলেন। জাতীয় সংসদ চলাকালে ১৯৯৭ সালের ৬ আগস্ট আকস্মিক ভাবে মুত্যৃবরণ করেন।
মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তান রেখে মারা যান এ গুণী রাজনীতিক। মৃত্যুর ৩০ বছর পার হলেও আবালবৃদ্ধবনিতা শরীফ উদ্দিন আহমেদকে এখনো স্যার বলেই সম্বোধন করেন।