হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মেয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য স্টুডিওতে গিয়ে শ্লীলতাহানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগে বানিয়াচং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেছেন ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফারুক মিয়া। মামলা নং ৫- তাং-৫/০৮/২০২৬-বানিয়াচং থানা। গত সোমবার (৩আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই মামলা দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে উপজেলার ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের শেখের মহল্লার মৃত ময়না মিয়ার পুত্র ও উপজেলা এনসিপির আহবায়ক মোঃ জীবন আহমেদ লিটন (৩৫) এবং ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামের কৃষ্ণ রায় (৫০)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই ২০২৬, রবিবার দুপুর আনুমানিক ২:০০ ঘটিকায় বাদী মোঃ ফারুক মিয়া তার মেয়েকে নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ অনলাইন সংশোধনের উদ্দেশ্যে বানিয়াচং বড় বাজারের “হাসি খুশি ডিজিটাল স্টুডিও”-তে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, স্টুডিওতে অভিযুক্তরা ফারুক মিয়াকে পান-সিগারেট আনার অজুহাতে ৫০ টাকা দিয়ে দোকানে পাঠায়। এই সুযোগে অভিযুক্ত জীবন আহমেদ লিটন স্টুডিওতে একা থাকা তরুণীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে অশালীন ও অশুভ আচরণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটি স্থানীয় ২নং বানিয়াচং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ারিশ উদ্দিন খানের নিকট জানালে তিনি সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি, চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ফেরার পথে অভিযুক্ত লিটন তাদের পথরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং জোরপূর্বক একটি ভিডিও রেকর্ড করে।
পরে উক্ত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার ও সাংবাদিকদের ভুল বুঝিয়ে সংবাদ সম্মেলন করাসহ মামলা না করার জন্য বাদীকে অনবরত হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বানিয়াচং থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বানিয়াচং থানার তদন্ত (ওসি) কর্মকর্তা কবির হোসেন জানিয়েছেন গতকালই (বুধবার) মামলাটি এফআইআর করা হয়। মেয়েটির বয়স একটু কম হওয়াতে তাকে নারী শিশু আদালত পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া মামলার আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।