• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
Headline
সিলেট উশু চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এ বানিয়াচং উশু একাডেমি চ্যাম্পিয়ন বানিয়াচংয়ে ধানের চারার জমজমাট হাট : দূর-দূরান্তের কৃষকের মিলনমেলা আমিরখানী-ঘাগড়াকোনা রাস্তা পরিদর্শন : সংস্কার করে মেইন রোডে যুক্ত করার ঘোষণা দিলেন সাংসদ ডা. জীবন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার ছড়াছড়ি : মুমূর্ষু রোগী নিয়ে স্বজনদের চরম বিপাকে জনস্বার্থে বেহাল সড়ক সংস্কার : স্বস্তি ফিরছে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর বানিয়াচংয়ে উচ্ছেদ অভিযানে ‘অসম্পূর্ণতা : অবৈধ ছাউনি বহাল-অপসারণ করতে আবেদন গাড়ি ঠেলে পার হতে হয় কাদার সমুদ্র : আমিরখানী-ঘাগড়াকোনা সড়কে জনদুর্ভোগ তুঙ্গে নন্দনপুর বাজারে শিশু-কিশোর ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক সংগীতানুষ্ঠান হবিগঞ্জে ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা ও ৩১টি মোবাইল উদ্ধার : প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিল পুলিশ ১৮ মাস পর সরকারি জমিতে ফের বহুতল ভবন নির্মাণ : নেপথ্যে তহশীলদার আবুল কালাম !

বানিয়াচংয়ে ধানের চারার জমজমাট হাট : দূর-দূরান্তের কৃষকের মিলনমেলা

বিশেষ প্রতিনিধি / ৭৭ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

ধান রোপণের মৌসুমকে ঘিরে জমে উঠেছে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট। স্থানীয় ভাষায় ‘জালা’ নামে পরিচিত ধানের চারা বিক্রি ও কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠছে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ছিলাপাঞ্জা এলাকা।

শুধু বানিয়াচং নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত ধানের চারা নিয়ে ছুটে আসছেন এই হাটে। সকাল হতেই বিভিন্ন জাতের সবুজ ধানের চারা নিয়ে বসে পড়েন বিক্রেতারা। অন্যদিকে জমিতে রোপণের জন্য প্রয়োজনীয় চারা কিনতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক। ফলে দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম থাকে ছিলাপাঞ্জা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ধানের চারা। কেউ আঁটি বাঁধছেন, কেউ ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী চারা গুনে দিচ্ছেন। আবার কেউ দরদাম করছেন। চারা বিক্রি ভালো হওয়ায় অনেক কৃষকের মুখেই দেখা গেছে স্বস্তির হাসি।

চারা বিক্রেতা কৃষক আব্বাস মিয়া বলেন, ধানের চারা তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে চারা পরিচর্যা পর্যন্ত শ্রম দিতে হয়। এখন হাটে এসে ভালোভাবে বিক্রি করতে পারছি। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে।

লাখাই থেকে আসা আরেক বিক্রেতা জাহেদ মিয়া বলেন, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে কৃষকরা চারা কিনতে আসেন। এবার বিক্রি বেশ ভালো। সকালে চারা নিয়ে আসার পর বিকেল হওয়ার আগেই অনেক সময় প্রায় সব চারা বিক্রি হয়ে যায়।

চারা কিনতে আসা কৃষক সেলিম উদ্দিন বলেন, সব কৃষকের পক্ষে নিজের জমিতে চারা তৈরি করা সম্ভব হয় না। আবার সময়মতো চারা তৈরি করতে না পারলেও সমস্যা হয়। এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষকরা চারা নিয়ে আসেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো চারা বেছে কিনে নেওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ধানের চারা বিক্রির এই হাট একদিকে যেমন আমন মৌসুমে চাষিদের চারা সংগ্রহের সংকট দূর করছে, অন্যদিকে চারা উৎপাদনকারী কৃষকদের জন্য সৃষ্টি করছে বাড়তি আয়ের সুযোগ। ফলে মৌসুমি কৃষিভিত্তিক এই বেচাকেনা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

কৃষকরা জানান, ভালো মানের ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করতে পারলে চাহিদা থাকে বেশি। এ কারণে অনেক কৃষক এখন ধানের চারা উৎপাদনকেও বাড়তি আয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।
প্রতিদিনের এই ‘জালার হাট’ যেন গ্রামীণ কৃষিজীবনের এক ব্যতিক্রমী চিত্র। সবুজ ধানের চারা, কৃষকদের ব্যস্ততা আর ক্রেতাদের দরদামে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রাণ ফিরে পায় ছিলাপাঞ্জা এলাকা। ধানের মৌসুমজুড়ে এমন জমজমাট বেচাকেনা চলবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা