পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জমে উঠেছে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার পশুর হাট। হাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু উঠলেও প্রত্যাশার তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে বড় গরুর তুলনায় মাঝারি মানের গরুর বিক্রিই বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
রবিবার (২৪মে) সদরের ৫/৬নং বাজারে গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশি ও উন্নত জাতের ছোট, মাঝারি ও বড় গরুর সমাহার রয়েছে। ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে মাঝারি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে বড় গরুর দাম ৩ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৬-৭ লাখ টাকায় উঠছে, যা অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে।
ক্রেতাদের বক্তব্য:
স্থানীয় ক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, “গরুর সংখ্যা অনেক, কিন্তু দাম অনেক বেশি চাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার ২০-৩০ হাজার টাকা বেশি মনে হচ্ছে। তাই আমরা মাঝারি গরুর দিকেই ঝুঁকছি।”
আরেক ক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, “পরিবারের বাজেট হিসেব করে গরু কিনতে হয়। বড় গরু দেখতেও ভালো লাগে, কিন্তু কিনতে গেলে সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়।”
বিক্রেতাদের বক্তব্য:
বিক্রেতা রহিম উদ্দিন জানান, “আমরা গরু লালন-পালনে অনেক খরচ করেছি। খাবারের দাম, ওষুধ সবকিছু বেড়েছে, তাই একটু বেশি দাম চাইতেই হচ্ছে। তবে মাঝারি গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে।”
অন্য এক বিক্রেতা মজনু মিয়া বলেন, “হাটে গরুর ঘাটতি নেই। কিন্তু ক্রেতারা দামাদামি বেশি করছে। শেষ পর্যন্ত মাঝামাঝি দামে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।”
হাট সংশ্লিষ্টদের মতামত:
হাট পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, হাটে পর্যাপ্ত পশু সরবরাহ রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে সার্বিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে দেখা গেছে, বানিয়াচং পশুর হাটে গরুর সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় ক্রেতারা বাজেট অনুযায়ী মাঝারি মানের গরু কিনতেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।