• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
Headline
বানিয়াচং-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে থানা পুলিশের চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা রায়েরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসএমসি কমিটি গঠন উপলক্ষে সাধারণ সভা “বানিয়াচং সাইকেল মার্ট”-সাইকেল প্রেমীদের বিশ্বস্ত ঠিকানা লামাপাড়া-যাত্রাপাশা গ্রামের ভিতরের রাস্তা নিয়ে চরম দুর্ভোগ হবিগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বানিয়াচংয়ের শতবর্ষী এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ রক্ষণাবেক্ষণ ও অবহেলায় ধ্বংসের পথে হবিগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বানিয়াচং ঠাকুরাইন দীঘির পাড় সংযোগ সড়ক বেহাল : ঢালাইয়ের স্তর উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি

বানিয়াচংয়ের শতবর্ষী এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ রক্ষণাবেক্ষণ ও অবহেলায় ধ্বংসের পথে

Reporter Name / ৭৪ Time View
Update : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

এক সময় বানিয়াচংয়ের প্রাণকেন্দ্র ছিল একটি মাঠ—যেখানে বিকেল নামলেই জমে উঠত ফুটবলের উৎসব। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ, তরুণ খেলোয়াড় আর দর্শকদের উপস্থিতিতে মুখর থাকত পুরো এলাকা। সেই মাঠ আজ অবহেলায় হারাতে বসেছে তার অতীতের গৌরবময় দিনগুলো।

বানিয়াচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠ বর্তমানে চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একসময় যেখানে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো, আজ সেখানে মাঠ ভেঙ্গে গর্ত ও অনিয়মিত পরিচর্যার কারণে খেলাধুলা প্রায় বন্ধের মুখে।

এই মাঠেই গড়ে উঠেছিল বানিয়াচংয়ের নামকরা ফুটবল ক্লাবগুলোর সাফল্যের ইতিহাস। গ্রীনগার্ডস, নওজোয়ান, ফাইভ এন্ড সিক্স, রোজেস এলিভেন, পপুলার, টাউনক্লাব ও সূর্য্যসেনা ক্লাবের খেলোয়াড়রা নিয়মিত তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করতেন। দৃষ্টিনন্দন পাস, চমৎকার ড্রিবলিং আর গোলের উচ্ছ্বাসে প্রতিটি ম্যাচ পরিণত হতো একেকটি উৎসবে।

প্রতিটি ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ খেলা উপভোগ করতেন। একটি গোল হলেই আনন্দে ফেটে পড়ত পুরো এলাকা। জয়-পরাজয়ের উর্ধ্বে গিয়ে এই মাঠ ছিল সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতির প্রতীক।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, এই মাঠ শুধু খেলার জায়গা ছিল না, এটি ছিল আমাদের আবেগ, আমাদের গর্ব। এখানে খেলে অনেকেই বড় পর্যায়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখত। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে মাঠটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নেই নিয়মিত খেলা বা টুর্নামেন্টের আয়োজন। ফলে নতুন প্রজন্ম হারাচ্ছে একটি ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়াঙ্গন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকে, আর শুকনো মৌসুমে মাটি শক্ত ও অসমান হয়ে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিদ্যালয়ভিত্তিক কিংবা আন্ত:উপজেলা কোনো টুর্নামেন্টও এখন আর এখানে আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।

সাবেক ছাত্র ও স্থানীয় ফুটবল খেলোয়াড় রাকিব আহমেদ বলেন,এই মাঠে খেলেই আমরা বড় হয়েছি। একসময় এখানে নিয়মিত টুর্নামেন্ট হতো, দর্শকে মাঠ ভরে যেত। এখন মাঠের যে অবস্থা, সেখানে খেলাই সম্ভব না। একটু উদ্যোগ নিলেই মাঠটি আবার আগের মতো করা সম্ভব।

আরেক সাবেক শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমী জাহিদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের এত বড় ঐতিহ্য থাকলেও খেলার মাঠের দিকে কোনো নজর নেই। তরুণদের খেলাধুলা থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে মাঠটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি ভালো খেলার মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সচেতন মহলের মতে, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে মাঠটি পুনরায় খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা গেলে বিদ্যালয়ের ক্রীড়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

ছবি : মোস্তাকিম মিয়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা