হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় নজির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী নামে নতুন একটি কলেজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট ) সকালে উপজেলার কাগাপাশা মৌজার হায়দরপুর গ্রামে কলেজ প্রাঙ্গণে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কলেজ উদ্বোধন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) গালিব হোসাইন, বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক, এডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক দিয়াসহ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসাইন মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক নকীব ফজলে রকিব মাখন,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোবাশ্বির আহমেদ মজনুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কলেজের অধ্যক্ষ মোর্শেদ কামাল এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ বলেন, “শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। একটি এলাকায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা মানে সেই এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়া। নজির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী কলেজ এই অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই এবং সহযোগিতা করে থাকি। আমি আশা করি, এই কলেজ থেকে আগামীর মেধাবী ও সৎ নাগরিক তৈরি হবে, যারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে।”
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। পরে কলেজের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা শিক্ষার প্রসারে এ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।বক্তারা কলেজ প্রতিষ্ঠাতার উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ কলেজের বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন কামনা করেন।
হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত নজির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী কলেজটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য দূরবর্তী স্থানে যেতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ তার পিতা মরহুম নজির উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর নামানুসারেই কলেজটির নামকরণ করা হয়।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি শুধু পিতার স্মৃতিকে অম্লান রাখেননি, বরং পুরো হাওরাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই কলেজ একদিন অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং এখান থেকে গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক।