হবিগঞ্জের বানিয়াচং-হবিগঞ্জ রুটে গণপরিবহনের সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত ভাড়া, যাত্রী হয়রানি, গাড়ির সংকট এবং সিএনজি সমিতির অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এই রুটে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী। দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ রুটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) বাস সার্ভিস চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে।
শুধু সরাসরি যাত্রীদের মধ্যেই নয়, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীরা তাদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন। এসব পোস্টে অনেকে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ রুটে দ্রুত বিআরটিসি বাস চালুর দাবি জানাচ্ছেন। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া ও পরিবহন সংকটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলছেন, এই রুটে একটি সরকারি পরিবহন ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বানিয়াচং থেকে হবিগঞ্জ শহরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপরই মূলত নির্ভর করতে হয় সাধারণ মানুষকে। কিন্তু বিভিন্ন সময় সিএনজি মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক সমস্যা কিংবা সংগঠনের সিদ্ধান্তের কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে একদিকে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে, অন্যদিকে বিকল্প পরিবহন না থাকায় অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়।
জরুরি কাজে হবিগঞ্জ শহরে যাওয়া রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হওয়া এবং পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
রুবেল আহমেদ নামে এই রোডে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী বলেন,“বানিয়াচং থেকে হবিগঞ্জে যেতে হলে সিএনজির ওপর নির্ভর করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। কিন্তু গাড়ি বন্ধ থাকলে বা সংকট তৈরি হলে আমরা একেবারে বিপাকে পড়ে যাই। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও অনেক সময় যেতে হয়। বিআরটিসি বাস চালু হলে আমাদের এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।”
সাবিনা আক্তার নামে এক কলেজ ছাত্রী বলেন, “সরকারি বিআরটিসি বাস চালু হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়া ও নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং যাত্রী হয়রানিও কমবে। আমরা চাই দ্রুত এই রুটে বিআরটিসি বাস দেওয়া হোক।”
আরেক ছাত্রী শারমিন চৌধুরী বলেন, “প্রতিদিন পড়াশোনার জন্য হবিগঞ্জে যেতে হয়। গাড়ি সংকট হলে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও যেতে হয়। বিআরটিসি বাস চালু হলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত দেওয়া এক স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, “বানিয়াচং একটি বড় উপজেলা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হবিগঞ্জ শহরে যাতায়াত করেন। অথচ এই রুটে সরকারি বাস সার্ভিস নেই। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে দ্রুত বিআরটিসি বাস চালু করা উচিত।”
আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বিপ্লব দাস তার পোস্টে পরিবহন সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, সিএনজি নিয়ে কোনো সমস্যা বা বিরোধ দেখা দিলেই সাধারণ যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েন। তাই একটি বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য সরকারি গণপরিবহন ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বানিয়াচং একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, চাকরি ও প্রশাসনিক কাজে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ হবিগঞ্জ শহরে যাতায়াত করেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তাদের দাবি, বানিয়াচং-হবিগঞ্জ রুটে নির্দিষ্ট সময়সূচিতে বিআরটিসি বাস চালু করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে। সিএনজি মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও যাত্রীদের হাতে বিকল্প পরিবহন থাকবে।
নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী কামরুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিএনজি বন্ধ হলে আমরা কার্যত জিম্মি হয়ে যাই। তখন আমাদের হাতে কোনো বিকল্প থাকে না। সরকার যদি বিআরটিসি বাস চালু করে, তাহলে অন্তত নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ভাড়ায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এটি শুধু পরিবহনের দাবি নয়, সাধারণ মানুষের স্বস্তির দাবি।”
স্থানীয়দের প্রস্তাব, শুরুতে কয়েকটি বিআরটিসি বাস দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ রুটে সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় পরবর্তীতে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হলে এই রুটের দীর্ঘদিনের পরিবহন সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন তারা।
সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠে আসা তাদের দাবি ও ভোগান্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। দ্রুত বানিয়াচং-হবিগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে অতিরিক্ত ভাড়া, যাত্রী হয়রানি ও সিএনজি সংকট থেকে হাজারো মানুষ স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।