হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীরা আসেন সুস্থ হতে, কিন্তু চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হচ্ছে নানা অব্যবস্থাপনার। হাসপাতালের লিফট, বিদ্যুৎ, পানি ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার বেহাল দশায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।
হাসপাতালের দুটি লিফটের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট রয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে কার্যত ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় পুরুষ ওয়ার্ডের রোগীদের। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ড রয়েছে সপ্তম তলায়। এমন অবস্থায় কোনো মুমূর্ষু পুরুষ রোগীকে দ্রুত সপ্তম তলায় নেওয়ার প্রয়োজন হলে লিফট সচল না থাকায় তাকে কীভাবে ওপরে নেওয়া হবে—এ প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
শুধু লিফট বা বিদ্যুৎ নয়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পানির ট্যাপও নষ্ট পড়ে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রোগী ও স্বজনদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতিও চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের জন্য যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, সেখানে এমন পরিস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, হাসপাতালের লিফট নষ্ট, পানির ট্যাপ নষ্ট, বিদ্যুৎ সংকট ও পরিচ্ছন্নতার বেহাল দশা—সবই যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে হাসপাতালের তদারকিটাও কি নষ্ট হয়ে গেছে?
চিকিৎসা শুধু ওষুধ ও চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রোগীর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ। তাই হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের এসব সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
তাদের প্রশ্ন—এই অব্যবস্থাপনার চিত্র আর কতদিন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের এই চিত্র বদলাবে কবে?