হবিগঞ্জে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নৈতিক সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকার সরকারি ভাতাপ্রাপ্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অংশগ্রহণে “সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নৈতিক সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ তারেক মাহমুদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমাজের মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। মসজিদকে কেন্দ্র করে তারা মানুষের মাঝে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে পারেন। তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এজন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি হলো নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ। ইমাম-মুয়াজ্জিনরা নিয়মিতভাবে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, তরুণ প্রজন্মকে অপরাধমুক্ত রাখা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।