ইসলাম মানুষের অন্তরে দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিকতা সৃষ্টি করে-অ্যাড: মুুন্না তালুকদার
অতিথি লেখক
/ ৬৬
Time View
Update :
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
Share
মানুষের মৃত্যুতে একজন মুমিনের হৃদয় নরম হয়ে যায়। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, মৃত্যুর সংবাদ শুনে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” বলতে, মৃতের জন্য মাগফিরাত কামনা করতে এবং তার ভালো কাজগুলো স্মরণ করতে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষও রয়েছেন যারা কারও মৃত্যুর সংবাদে আনন্দ প্রকাশের মতো আচরণ করেন, এমনকি এমন মন্তব্য করেন যা একজন মুসলমানের চরিত্র ও আদর্শের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আগে ভাবতাম এ ধরনের মানসিকতা হয়তো আমাদের সমাজে নেই। কিন্তু বাস্তবে এমন দুজন ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছি, যা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, মৃত ব্যক্তির সমালোচনা নয়; বরং তার জন্য দোয়া করতে। কারণ মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা, যার স্বাদ প্রত্যেক প্রাণীকেই গ্রহণ করতে হবে। আজ যার মৃত্যুতে কেউ বিদ্রূপ করছে, কাল তার নিজের জন্যও মানুষ দোয়া করবে কিংবা সমালোচনা করবে—এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।
ইসলাম মানুষের অন্তরে দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিকতা সৃষ্টি করে। তাই কোনো মুসলমানের মুখে ইসলাম আর অন্তরে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অমানবিকতা একসঙ্গে স্থান পেতে পারে না। মৃত্যুর মতো একটি বেদনাদায়ক ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং এটি আত্মিক সংকীর্ণতা ও মানবিক অবক্ষয়ের পরিচয় বহন করে।
আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে চাই না, কারও নামও বলতে চাই না। এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করারও প্রয়োজন মনে করি না। কারণ মানুষের বিচার মানুষ নয়, সর্বশক্তিমান আল্লাহই করবেন।
আমি শুধু এতটুকুই বলতে চাই—মৃত্যুকে উপহাস নয়, শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করুন; মৃতের জন্য অভিশাপ নয়, দোয়া করুন; কারণ একদিন আমরাও কারও শোকবার্তার বিষয়বস্তু হয়ে যাব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মানবিকতা, তাকওয়া ও মৃত্যুর শিক্ষা থেকে উপদেশ গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : অ্যাডভোকেট মুন্না তালুকদার,জজ কোর্ট হবিগঞ্জ।