বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কের রত্না ব্রিজের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ সড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রত্না ব্রিজের সংকীর্ণতা, অপরিকল্পিত যানবাহন চলাচল এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস সময়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে করে অফিসগামী মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না, একইভাবে শিক্ষার্থীরাও সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, জ্যামের কারণে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে বসে থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই দীর্ঘসময় আটকে থাকার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানান।
রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী প্রভাষক ইমতিয়াজ আহমেদ লিলু বলেন, “ কর্মস্থলে যেতে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু রত্না ব্রিজ এলাকায় আসলেই প্রায় দিন ই জ্যামে আটকে থাকতে হয়। এতে আমাদের কর্মজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।”
বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কের রত্না ব্রিজ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। তারা বলছেন, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে সময়, জ্বালানি ও আয়—সবকিছুরই ক্ষতি হচ্ছে।
বাসচালক তোরাব আলী জানান, “এই ব্রিজ এলাকায় আসলেই গাড়ি থেমে যায়। একবার জ্যামে পড়লে বের হতে দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এতে করে নির্ধারিত ট্রিপ দিতে পারি না, মালিকের চাপও বাড়ে।”
সিএনজি চালক জিতু মিয়া বলেন, “যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে মাঝপথেই নেমে যায়। ভাড়া কমে যায়, আবার গরমে গাড়ির ভেতরে বসে থাকা খুব কষ্টকর। প্রতিদিনই এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
ট্রাকচালক হুমায়ুন আহমেদ জানান, পণ্যবাহী গাড়ি দীর্ঘসময় আটকে থাকায় সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক সোহেল রাব্বানি বলেন, “রাস্তায় কোনো শৃঙ্খলা নেই। রত্না ব্র্রিজে কার আগে কে উঠবে সেই প্র্রতিযোগিতা শুরু হয় যানবাহন চালকদের মধ্যে। ছোট-বড় সব গাড়ি এলোমেলোভাবে চলাচল করে, যার কারণে জ্যাম আরও বাড়ে। যানজট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। রত্না ব্রিজ নতুুন করে তৈরী, সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা, যাতে জনদুর্ভোগ কমে আসে এবং স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা যায়।