হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় বিদ্যুত সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে বাড়তি বিদ্যুত বিল নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। বিল দিতে গিয়ে পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি।
স্থানীয়রা জানান, দিনে-রাতে মিলিয়ে একাধিকবার বিদ্যুত চলে যাচ্ছে। কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুত থাকে না, আবার কখনো আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বানিয়াচং নতুনবাজারের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, দোকানে ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। ফ্রিজের জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনে কয়েকবার বিদ্যুত চলে গেলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী জামাল আহমেদ জানান, রাতে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। বিদ্যুত না থাকলে অনেক কষ্ট হয়।
এদিকে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুত না থাকলেও বিল আসছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। গৃহিণী রোকেয়া খাতুন বলেন, মাসজুড়ে বিদ্যুত থাকে না, অথচ বিল আগের চেয়ে বেশি। এটা কিভাবে সম্ভব বুঝতে পারছি না।
সরকার দলীয় কয়েকজন স্থানীয় নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণ বিদ্যুত না পেয়ে কষ্টে আছে, অথচ বিল বাড়ছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে। না হলে সরকারের বদনাম হবে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুত বিল পরিশোধ করতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অফিসে বা ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, অনেক সময় অনলাইন সিস্টেমেও জটিলতা দেখা দেয়। তারা আরো জানান,যতবার বিদ্যুত আসে যায় ততবার এক্সট্রা বিল গ্রাহকদের উপর এসে পরে। এতে করে অতিরিক্ত ৩০-৩২% বিল বহন করছে গ্রাহকরা। নির্দিষ্ট ব্যাংকে বিদ্যুত বিল জমা দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকে বিল গ্রহণ না করে নানা অজুহাতে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে বাধ্য হয়ে অফিসে গিয়ে বিল পরিশোধ করতে হলে সেখানে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে তারা অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই বলছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকে বিল গ্রহণ বন্ধ রেখে অফিসমুখী করা হচ্ছে গ্রাহকদের, যাতে বাড়তি অর্থ আদায় করা যায়।
এ বিষয়ে বানিয়াচং জোনাল অফিস পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দল্লাহ আল মাসুদ বলেন,-চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে,সমস্যাটা জাতীয় গ্রীডে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। লোডশেডিংতো আগেও ছিল। যতটুকু জানি দেশের কয়েকটা বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে,তাই লোডশেডিংয়ের প্রভাবটা বাড়ছে। আর বিল সংক্রান্ত অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে গ্রাহকদের বিল নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এলাকাবাসীর দাবি, লোডশেডিং কমিয়ে স্থিতিশীল বিদ্যুত সরবরাহ এবং হয়রানিমুক্ত বিল পরিশোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, নতুবা জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।