• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
Headline
হবিগঞ্জে এপেক্স ক্লাবের উদ্যোগে এতিমখানায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রাজনৈতিক নেতাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা–ভিসি ড. জহিরুল হক আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস আজমিরীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও-দ্রুত জিও ব্যাগ স্থাপনের নির্দেশ রাধাপুরে খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি-সুফিয়া মতিন কলেজের সামনে চরম দুর্ভোগ হবিগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শনে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জড়ানো এক নাম : আমাদের শরীফ উদ্দিন স্যার নেতৃত্ব-উদ্ভাবন ও এসডিজি’র আলোচনায় বিশ্বমঞ্চে বানিয়াচংয়ের নাফিস আজমিরীগঞ্জে অতিবৃষ্টির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জড়ানো এক নাম : আমাদের শরীফ উদ্দিন স্যার

বিশেষ প্রতিনিধি / ১০০ Time View
Update : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

বানিয়াচংয়ের মাটি ও মানুষের অত্যন্ত প্রিয়, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব মরহুম শরীফ উদ্দিন আহমেদ। শিক্ষকতা, আইন পেশা এবং রাজনীতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সততা, মেধা ও নিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। দলমত নির্বিশেষে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জবাসীর কাছে তিনি আজীবন এক অনুকরণীয় আদর্শের প্রতীক ছিলেন।

তার গৌরবময় কর্মময় জীবন নিয়ে নিচে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো:

১. জন্ম ও শৈশব

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার প্রত্যন্ত ও ঐতিহ্যবাহী তারাসই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শরীফ উদ্দিন আহমেদ। গ্রামীণ পরিবেশের আলো-বাতাসে বেড়ে উঠলেও মেধা ও প্রজ্ঞার জোরে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। তার এই সাধারণ জীবনযাত্রা ও শেকড়ের প্রতি টান তাকে আজীবন সাধারণ মানুষের কাছাকাছি রেখেছিল।

২. শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও ‘শরীফ উদ্দিন স্যার’

শরীফ উদ্দিন আহমেদের কর্মজীবনের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায় শুরু হয় বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে।

  • আদর্শ শিক্ষক: ক্লাসরুমে তার পাঠদান পদ্ধতি, স্নেহসুলভ আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার ক্ষমতা তাকে অল্প দিনেই জনপ্রিয় করে তোলে।

  • সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব: শিক্ষকতা পেশা থেকে বিদায় নেওয়ার পরও তিনি দলমত নির্বিশেষে পুরো বানিয়াচংবাসীর কাছে আজীবন ‘শরীফ উদ্দিন স্যার’ নামেই পরিচিত ও সমাদৃত ছিলেন। তার ছাত্ররা আজ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

৩. আইন পেশায় পদার্পণ ও সুনাম

শিক্ষকতা জীবন শেষ করার পর তিনি আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। একজন আইনজীবী হিসেবেও তিনি ব্যাপক সুনাম ও মেধার স্বাক্ষর রাখেন। আদালতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পক্ষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি কাজ করে গেছেন। আইনের শাসন এবং সততার প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি, যা আইনজীবী সমাজে তাকে অত্যন্ত সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।

অর্থ নয়, আর্তের সেবাই ছিল ব্রত

শিক্ষকতা জীবন শেষ করার পর শরীফ উদ্দিন আহমেদ যখন আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন, তখন আদালত পাড়ায় তিনি সততা আর মানবিকতার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি শুধু মামলার ডায়েরিই মেইনটেইন করেননি, কুড়িয়েছেন হাজারো মানুষের অন্তহীন দোয়া ও ভালোবাসা।

  • বিনা ফিসে আইনি লড়াই: দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষ যখন আইনি সহায়তার জন্য তাঁর কাছে আসতো, তিনি কখনোই টাকার দিকে তাকাতেন না। কোনো প্রকার পারিশ্রমিক বা ফিস ছাড়াই তিনি দিনের পর দিন তাদের মামলা পরিচালনা করতেন।

  • মক্কেলকে উল্টো টাকা দান: নিঃস্ব মক্কেলের করুণ দশা দেখে তাঁর কোমল হৃদয় কেঁদে উঠতো। বিনা পয়সায় মামলা লড়ার পরও তিনি শান্ত হতে পারতেন না। উল্টো নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে অসহায় মক্কেলদের হাতে গুঁজে দিতেন।

  • খাবার ও গাড়ি ভাড়ার দায়িত্ব: গ্রাম থেকে আসা অনেক মক্কেলেরই দুপুরে একটা ভালো খাবার কিংবা বাড়ি ফেরার মতো গাড়ি ভাড়া থাকতো না। শরীফ উদ্দিন স্যার নিজ দায়িত্বে তাদের হোটেলে নিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়াতেন এবং পরম মমতায় বাড়ি ফেরার গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিদায় করতেন।

আইন পেশাকে তিনি কখনোই অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার করেননি, বরং এটিকে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের অবহেলিত ও শোষিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক পবিত্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। একজন মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীর দেশপ্রেম আর মানবতাবোধ থাকলে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মক্কেলদের এভাবে আগলে রাখা যায়, তিনি ছিলেন তার এক জীবন্ত উদাহরণ।

৪. সংসদ সদস্য হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্ব ও উন্নয়ন

জনগণের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং মানুষের দাবির মুখে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।

  • উন্নয়নের রূপকার: একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি হাওরাঞ্চলের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

  • সাদা মনের মানুষ: ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তার সরল জীবনযাপন, অমায়িক ব্যবহার এবং অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে আর দশজন রাজনৈতিক নেতার চেয়ে আলাদা করেছিল। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সবার জন্য কাজ করে গেছেন।

উপসংহার: শরীফ উদ্দিন আহমেদ কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন বানিয়াচংয়ের একটি প্রতিষ্ঠান। একজন আদর্শ শিক্ষক, ন্যায়পরায়ণ আইনজীবী এবং পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার রেখে যাওয়া আদর্শ আজীবন বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জবাসীর হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা