হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, তামাকের ক্ষতিকর দিক এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি.এম. সরফরাজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি.এম. সরফরাজ বলেন, কৈশোরকাল মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ সময়ে সঠিক স্বাস্থ্যজ্ঞান, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষার্থীদের তামাকজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তামাক শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যই নষ্ট করে না, পরিবার ও সমাজের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না; প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে পারে। একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মুখলিছুর রহমান এবং হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল কাইয়্যুম।
আলোচনায় বক্তারা কৈশোরকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সুষম পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি তামাকজাতীয় দ্রব্যের ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, সুস্থ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মাদক-তামাকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।