• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
বানিয়াচংয়ে কৃষকের ৪২ শতক জমির টমেটো চারা কেটে দিল দুর্বৃত্তরা-ক্ষতি ১২ লাখ টাকা ! বানিয়াচংয়ের চার কলেজে পাস ৮৩৭ জন, ফেল করেছে ৮৬৪ জন-জিপিএ৫ মাত্র ২ জন। নাটক ছিল অপহরণকাণ্ডের : প্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার হল জুয়েল বানিয়াচংয়ে জুয়েল মিয়ার অপহরণ নিয়ে রহস্য-মুক্তিপণ দাবি ১০ লাখ টাকা ! হবিগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত ২৬ কর্মচারীকে জেলা প্রশাসনের বিদায়ী সংবর্ধনা আজমিরীগঞ্জে ৩ মাস ধরে ইউএনও নেই : প্রজ্ঞাপনের পরও যোগদান করেননি নতুন কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাটারি পুড়িয়ে শীসা তৈরির কারখানা সরিয়ে নিল কর্তৃপক্ষ বানিয়াচং-শিবপাশা রোডে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি : কারখানার বিষয়ে অবগত নয় পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা-বিষাদে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে দুই গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান

ঐতিহাসিক সাগর দীঘিতে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও উৎসবের আমেজ : গড়ে উঠেছে অস্থায়ী মুখরোচক খাবারের দোকান

বিশেষ প্রতিনিধি / ১৮৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আজ (শুক্রবার) দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ও বৃহত্তম মানবসৃষ্ট জলাশয়—বানিয়াচংয়ের ‘সাগর দীঘি’ প্রাঙ্গণে ঢল নেমেছে হাজারো পর্যটকের। তীব্র গরম উপেক্ষা করে বিকেল গড়াতেই দীঘির চারপাশ রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে। বিভিন্ন উৎসব পার্বনে স্থানীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি আশেপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক ভ্রমণপিপাসু মানুষ এখানে ছুটে আসছেন।

সরেজমিনে দীঘি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীঘির পাড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী মুখরোচক খাবারের দোকান। কেউ সপরিবারে এসেছেন, কেউবা বন্ধুদের দল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দীঘির শান্ত জলরাশির পাশে বসে আড্ডা, ছবি তোলা এবং মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে চড়ে চারপাশ ঘুরে দেখার আনন্দ উপভোগ করছেন সবাই।

দর্শনার্থীদের চোখে ঈদের আনন্দ (পর্যটকদের বক্তব্য)—

দীঘির পাড়ে ঘুরতে আসা বিভিন্ন বয়সী পর্যটকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের ভালো লাগা ও কিছু প্রত্যাশার কথা:

মো. কামরুল হাসান (স্থানীয় দর্শনার্থী): “প্রতি ঈদেই আমরা বন্ধুরা মিলে সাগর দীঘির পাড়ে আসি। এবারও এসেছি। বিকেল বেলা এখানকার বাতাস আর পরিবেশটা দারুণ লাগে। তবে প্রতি বছরের তুলনায় এবার মানুষের ভিড় অনেক বেশি। সবাই মিলে বেশ আনন্দ করছি।”

সুমি আক্তার (পরিবারসহ সিলেট থেকে আসা পর্যটক): “বানিয়াচং সাগর দীঘির কথা অনেক শুনেছি, কিন্তু আসা হয়নি। ঈদের ছুটিতে এবার পুরো পরিবার নিয়ে আসলাম। জায়গাটা অনেক বড় এবং সুন্দর। কিন্তু দীঘির পাড়ে বসার মতো পর্যাপ্ত স্থায়ী ব্যবস্থা বা ভালো শেড নেই। রোদের মধ্যে একটু কষ্ট হয়েছে। এই ঐতিহাসিক জায়গাটাকে যদি আরেকটু আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব করা যেত, তবে দূর-দূরান্তের মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারত।”

তরুণ বাইকার রিফাত আহমেদ: “আমরা এক দল বন্ধু মিলে হবিগঞ্জ সদর থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছি। ঈদের দিনে ফাঁকা রাস্তায় রাইড দিয়ে এখানে এসে আড্ডা দেওয়ার মজাই আলাদা। এখানে এসে অনেক পরিচিত মানুষের সাথেও দেখা হয়ে গেল।”

স্থায়ীদের অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য—

পর্যটকদের এই উপচে পড়া ভিড়কে কেন্দ্র করে দীঘির চারপাশের অস্থায়ী ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিম ও খেলনার দোকানগুলোতে কেনাবেচা জমে উঠেছে। একজন স্থানীয় বিক্রেতা জানান, “ঈদের এই কয়েকটা দিন আমাদের ভালো আয় হয়। দূর থেকে মানুষ আসে, কেনাকাটা করে। আমরাও সাধ্যমতো ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

ঐতিহাসিক এই সাগর দীঘির সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আগত দর্শনার্থীরা। তবে সব মিলিয়ে, ঈদের দ্বিতীয় দিনের বিকেলটা সাগর দীঘির পাড়ে ছিল মুখর, প্রাণবন্ত এবং উৎসবমুখর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা