সারা দেশের ন্যায় বানিয়াচংয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, আনন্দ-উৎসব ও নানা আয়োজনের পর দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে ভক্তদের মাঝে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
বিজয়া দশমীর দিনে সকাল থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলে দেবী দুর্গার পূজা, অঞ্জলি, সিঁদুর খেলা ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। পরে ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি ও ভক্তদের উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। আনন্দ-উল্লাসের মধ্যেও প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু।
প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা ভক্ত সজিব দাস বলেন, “দুর্গাপূজা আমাদের কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব। কয়েক দিন ধরে আমরা সবাই মিলে আনন্দ করেছি। কিন্তু বিসর্জনের সময় মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। দেবী দুর্গা যেন আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আরেক ভক্ত সিপ্রা চক্রবর্তী বলেন, “মা দুর্গার কাছে আমাদের প্রার্থনা—পৃথিবী থেকে সব অশুভ শক্তি দূর হোক, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাক। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে। আগামী বছর আবারও আনন্দের সঙ্গে মায়ের আগমন উদ্যাপন করতে চাই।”
এ দিকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বানিয়াচং পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাধব দেব। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। পূজা উদযাপনে সার্বিক সহযোগিতা করায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মাধব দেব আরও বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যেরও প্রতীক। সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার কারণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি পূজা উদযাপনে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবক, পূজা মণ্ডপের আয়োজক, ভক্ত-অনুরাগী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গার আগমন অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার বার্তা বহন করে। তাই বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে যায় দেবীর প্রতি গভীর ভক্তি, ভালোবাসা ও আগামী বছরের আগমনী প্রত্যাশা।