• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
Headline
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হলেন বানিয়াচংয়ের কৃতি সন্তান সরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ইকবাল বানিয়াচংয়ে যুবকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘জেএস মোবাইল রিপেয়ারিং ট্রেনিং সেন্টার’ বানিয়াচং সন্দলপুর ভি সি উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন সাংবাদিক সাইফুর রহমান তারেক শরীরে অভিনব কায়দায় গাঁজা পেঁচিয়ে পরিবহনকালে যুবক আটক হবিগঞ্জে ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শতবর্ষী এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর-হারিয়েছে তার আগের রুপ হবিগঞ্জের গ্রান্ড নবাব রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টার : আধুনিক খাবার ও আয়োজনের নতুন ঠিকানা হবিগঞ্জে প্রথম বেসরকারি সুইমিং পুলের শুভ উদ্বোধন সোমবার : বিনোদনে নতুন মাত্রা জেলা পর্যায়ে স্টার্টআপ, ইনোভেশন ও সাইন্স প্রজেক্ট শোকেসিংয়ে তৃতীয় হয়েছে এন এইচ জাহেদ একাডেমি হবিগঞ্জে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বানিয়াচংয়ে যুবকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘জেএস মোবাইল রিপেয়ারিং ট্রেনিং সেন্টার’

বিশেষ প্রতিনিধি / ৭৬ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলেও স্মার্টফোন ও ফিচার ফোনের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মোবাইল ফোনের এই বিপুল জনপ্রিয়তার সাথে সাথে এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামত (Repairing) সেবার চাহিদাও আকাশচুম্বী। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে মোবাইল রিপেয়ারিং ট্রেনিং সেন্টার।

সম্প্রতি হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকার নতুন বাজারে “জেএস মোবাইল রিপেয়ারিং ট্রেনিং সেন্টার” নামক একটি কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার নতুন পথ দেখাচ্ছে। গত সোমবার (১৫জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বানিয়াচং নতুুন বাজারের “সামছু ম্যানসন” ভবনের দোতলায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে।

মোবাইল রিপেয়ারিং এমন একটি পেশা যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক বড় ডিগ্রির চেয়ে হাতের কাজের দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হার্ডওয়্যার (যেমন: ডিসপ্লে পরিবর্তন, মাদারবোর্ড মেরামত) এবং সফটওয়্যার (যেমন: ফ্ল্যাশিং, লক আনলক) সংক্রান্ত কাজ শিখে একজন তরুণ খুব সহজেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। কেন্দ্র থেকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করে তরুণরা বড় কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই কেবল কিছু যন্ত্রপাতি কিনে নিজেদের এলাকায় মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান খুলতে সক্ষম হবে।

বানিয়াচংয়ের মতো একটি উপজেলায় এই ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অস্তিত্ব অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি মূলত দুটি বড় প্রভাব ফেলছে, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার এই সুযোগ স্থানীয় যুবসমাজকে মাদক বা অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োজিত করতে সাহায্য করছে। স্থানীয় তরুণরা দক্ষ হয়ে উঠলে এলাকার সাধারণ মানুষকে মোবাইল নষ্ট হলে জেলা শহর বা বিভাগীয় শহরে দৌড়াতে হবে না। তারা ঘরের কাছেই সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো সেবা পাবে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রশিক্ষণার্থীরা এ কোর্সে অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে মোবাইল ফোনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, আধুনিক টুলসের ব্যবহার, সার্কিট মেরামত, ফ্ল্যাশিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে। এতে করে প্রশিক্ষণার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন। ব্যাচ ভিত্তিক এই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল  ৪টা পর্যন্ত চলে হাতে-কলমে প্র্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষক শাহ জুুনাইদ আহমেদ জানান, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে মোবাইল সার্ভিসিং খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে অনেকেই নিজ এলাকায় দোকান স্থাপন করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

পরিচালক সুদীপ সুুত্রধর  জানান, “জেএস মোবাইল রিপেয়ারিং ট্রেনিং সেন্টার” এর মতো উদ্যোগগুলো দেশের “স্মার্ট বাংলাদেশ” বা দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যমাত্রার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এই ধরনের ব্যক্তিগত বা বেসরকারি উদ্যোগগুলোকে আরও সফল করতে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, সঠিক তদারকি এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হলে, এই সেন্টারটি বানিয়াচং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। যুব সমাজকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে আরও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের একজন বলেন, “এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা একটি সম্ভাবনাময় পেশার সঙ্গে যুক্ত হতে পারছি। ভবিষ্যতে নিজস্ব ব্যবসা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বানিয়াচংয়ে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা