হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ আবুল হোসেন (৩৫)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বুধবার ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রি. বুধবার দিবাগত রাতে র্যাব-৯ এবং র্যাব-১১ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানাধীন চমকপুর এলাকার বাসিন্দা এবং একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। অভিযুক্ত আবুল হোসেন বানিয়াচংয়ের মহামায়া গ্রামের মৃত সামাদ আলীর ছেলে। তারা দুজনে একসাথে দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর ২০২৪ খ্রি. আনুমানিক রাত ৮টার দিকে ঢাকা জেলার দোহার থানাধীন একটি ইটভাটায় কর্মরত থাকাকালীন অভিযুক্ত আবুল হোসেন কলোনিতে ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে সে ওই নারীকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
পরবর্তীতে তারা দুজনেই ঢাকা থেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে এসে চুনারুঘাট থানাধীন পাইকপাড়া এলাকার আরেকটি ইটভাটায় কাজ শুরু করেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত ১০ মে ২০২৫ খ্রি. বিকাল ৫টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ওই ভুক্তভোগী নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তিনি বিয়ের জন্য চাপ দেন। অভিযুক্ত আবুল হোসেন প্রথমে বারবার বিয়ের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানায় এবং এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
“ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।”
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার ১৫ জুলাই আনুমানিক রাত ৮:৫০ মিনিটে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প (হবিগঞ্জ) এবং র্যাব-১১ সদর কোম্পানি (নারায়ণগঞ্জ) যৌথভাবে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার লাঙ্গলবন্দ এলাকায় এক অতর্কিত অভিযান চালায়। উক্ত অভিযানে বানিয়াচং থানার মামলা নং-০৩ (তারিখ: ০৩/০৭/২০২৬ খ্রি.) এর এজাহারনামীয় একমাত্র পলাতক আসামি আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। সে মহামায়া গ্রামের মৃত সামাদ আলীর পুত্র।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার এবং অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশে সব ধরনের অপরাধ ও সহিংসতা দমনে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের এই ধরনের কঠোর অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।