হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জুয়েল মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাঁর মুক্তির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল মিয়া এলাকায় বনজ ও ভেষজ চিকিৎসার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। তাঁর চিকিৎসাসেবার মধ্যে অর্শ, গেজ, সলম ও দাউদ রোগের চিকিৎসাও রয়েছে ।
জুয়েল মিয়া বানিয়াচং উপজেলার ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা দিঘির পাড় মহল্লার বাসিন্দা মোশাহিদ মিয়ার ছেলে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দিবাগত রাতে তিনি অপহরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন সোমবার সকালে অপহরণকারীরা মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় একটি ভিন্ন দিকও সামনে এসেছে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, নিখোঁজ থাকার সময় জুয়েল মিয়া তাঁর বাড়িতে থাকা স্ত্রীর সঙ্গে কয়েকবার মুঠোফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি তাঁর ছেলের খোঁজখবরও নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে তাঁর অপহরণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ ঘটনাটিকে সাজানো নাটক বলেও সন্দেহ করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বানিয়াচং থানায় লিখিত আকারে একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৭অক্টোবর) অভিযোগ দাখিল করেছেন অপহৃত জুয়েল মিয়ার স্ত্রী মোছা: রুবি আক্তার। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বানিয়াচং থানার এসআই জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ নাজমুল হক জানান, এ বিষযে একটা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তার পরিবার কোনো কিছু বলতে পারেনা । আমরা খতিয়ে দেখছি।
ঘটনাটি প্রকৃত অপহরণ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।