হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে অপহরণের অভিযোগ ওঠার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জুয়েল মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে মৌলভীবাজারের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে বানিয়াচং থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২৭অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসআরবি-৯-এর সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। পরে তার শালার জিম্মায় জুয়েলকে তার কাছে তুলে দেয়া হয়েছে।
পুলিশের উদ্ধার-তৎপরতার পর জানা যায়, জুয়েল মিয়া নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জুয়েল মিয়া বানিয়াচং উপজেলার ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা দিঘির পাড় মহল্লার বাসিন্দা মোশাহিদ মিয়ার ছেলে।
এর আগে, জুয়েল মিয়াকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি ছিল, অপহরণকারীরা মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাঁর মুক্তির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। এ ঘটনায় বানিয়াচং থানায় একটি অভিযোগও দাখিল করা হয়।
তবে ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলের দিকে জুয়েলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর একাধিকবার মুঠোফোনে কথা বলার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে মৌলভীবাজারের একটি হোটেল থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অপহরণের অভিযোগের আড়ালে নিজেরই সাজানো নাটকের বিষয়টি সামনে আসায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে অপহৃত জুয়েলের মুখ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কিছু জানা যায়নি ।
বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক আজ (বুধবার) জুয়েল, তার স্ত্রী ও শালাকে থানায় আসতে বলেছেন। জুয়েল এর কাছ থেকে অপহরণের বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবেন বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে।